বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ও চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান আমীরুল ইসলাম জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হবে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর)। ৩য় জানাজার পরে তাকে মায়ের কবরেই তাঁকে সমাহিত করা হবে বলেও জানা গেছে।
ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, আমীরুল ইসলামের প্রথম জানাজা বাদ জুমা চ্যানেল আইয়ে বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল সাড়ে ৩টায় বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণে মরহুমের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আমীরুল ইসলামের মরদেহ বিকেল ৩টায় বাংলা একাডেমিতে নেওয়া হবে।
পরে, তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরে গোলারটেক ঈদগা জামে মসজিদে। পরে শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার মায়ের কবরেই তাঁকে সমাহিত করা হবে বলেও জানা গেছে।
কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে ৪ দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ৭ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।
১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন আমীরুল ইসলাম। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে শিশুদের জন্য গল্প, ছড়া, কবিতা ও নানা ধরনের সৃজনশীল লেখা লিখেছেন তিনি। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই শতাধিক। প্রকাশিত বইগুলোর অধিকাংশই শিশুসাহিত্য নির্ভর।
শিশুসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন আমীরুল ইসলাম। এ ছাড়া দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার ও সম্মাননাও পেয়েছেন তিনি।
শিশুদের কল্পনাজগৎ, আনন্দ-বেদনা ও চারপাশের জীবনকে সাহিত্যে সহজ ও প্রাণবন্তভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে তিনি বাংলা শিশুসাহিত্যে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন।
সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন আমীরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান নির্মাণ, পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছিল। চ্যানেল আইয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
তার মৃত্যুতে চ্যানেল আইয়ের সহকর্মীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। শোক জানিয়েছেন সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মীসহ তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
একজন সৃজনশীল শিশুসাহিত্যিক হিসেবে শিশু-কিশোরদের জন্য বিপুল সাহিত্যকর্ম রেখে গেছেন আমীরুল ইসলাম। একই সঙ্গে গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তার দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে।
সময়ের আলো/আতা