কী লিখছি কী পড়ছি

আতা সরকার

সাহিত্য

বর্ণ পরিচয় হতে না হতেই কানে ঝংকার দিয়ে উঠেছিল : চাঁদ উঠেছে ফুল ফুটেছে/ কদমতলায় কে?/ হাতি নাচে ঘোড়া নাচে/

2026-09-11T19:09:53+00:00
2026-09-11T19:09:53+00:00
 
  শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাহিত্য
কী লিখছি কী পড়ছি
আতা সরকার
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
বর্ণ পরিচয় হতে না হতেই কানে ঝংকার দিয়ে উঠেছিল : চাঁদ উঠেছে ফুল ফুটেছে/ কদমতলায় কে?/ হাতি নাচে ঘোড়া নাচে/ রামছাগলের বে।

বর্ণের মোহজালে এক মধুর অনুরণিত হলো হৃদয়ে। পাশাপাশি কল্পজগতেও এক মনোরম দৃশ্যরূপ : আকাশজুড়ে তারার মেলা। তার ফাঁকে চাঁদের আত্মপ্রকাশ। আলো ঝলমল এক মোহন রাত। চাঁদের আলোয় ভেসে যায় চরাচর। আবার গাছপালার ছায়ায় রচিত হয় আলো-আঁধারির রহস্যময়তা। আনন্দে আত্মহারা প্রাণী জগৎ। নেচে ওঠে তারা— হাতিরা ঘোড়ারাও। রাতটা যেন উৎসবের। উৎসব মানেই কারও না কারও বিয়ে। বিয়েটা রামছাগলেরই। এমন ধারার কল্পনা পেয়ে বসে বালকের মনে। পাঠের সঙ্গে সঙ্গে জন্ম নেয় কল্পনার জগৎও।

আরেকটু বেড়ে উঠলে সেই কবিতাটা, সেটাও চাঁদের : বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ঐ/ মাগো আমার শোলোক বলা কাজলা দিদি কই?

এমন একটি কবিতা ওই বয়সেই বুকের ভেতর স্বজন হারানোর কেমন এক ধরনের হাহাকার তৈরি করে। এই কবিতা ও পদ্যগুলোই কি পাঠ্যবই ছাড়াও আরও কবিতা, গল্প, উপন্যাস পড়ার ঝোঁক তৈরি করেছিল। নিজের মনের ভাবগুলোর জানান দিতে লেখালখির হাতিয়ার তুলে নেওয়ার? না হলে সেই ক্লাস টুতে পড়াকালেই কাউকে কোনো কিছু না জানিয়ে চুপিচুপি লেখার শুরু কেন? আবার আত্মপ্রকাশেরও তাগিদ। ক্লাস ফোরেই কবিতার লিফলেট প্রকাশ করে সিনেমার হ্যান্ডবিল বিতরণের মতো শহরের লোকদের কাছে সেই কবিতার লিফলেট বিনামূল্যে বিতরণ।

সেই থেকে পড়ার শুরু। লেখাও। কবিতা নয়, বুঝে গিয়েছি, কবিতা রচনা আমার কম্মো নয়— নিবেদিত গদ্য রচনাতেই। এই করে করে বয়স চুয়াত্তর পেরিয়ে পঁচাত্তর ছুঁইছুঁই। এখনও নিমগ্ন সেই পড়ায়। সেই লেখালেখি।

আমার এখনকার সব পড়াশোনা, লেখালেখি সোফাসেটে আয়েশে হেলান দিয়ে। এই তো আমার চেয়ারটায় সর্বক্ষণের সঙ্গী হয়ে রয়েছেন শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অখণ্ড গীতবিতান। এই বইটি আমার কাজের টেবিলে চা পানের মতো— ঝিমিয়ে পড়লেই নিজেকে চাঙ্গা করে তোলা।


কবি হাসান হাফিজুর রহমান এক সাহসী যোদ্ধা। ১৯৫৩ সালে তিনিই প্রথম সম্পাদনা করে ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ সংকলন প্রকাশ করেছিলেন, যা সে সময়কার সরকার নিষিদ্ধ করেছিল। তিনিই হাসান হাফিজুর রহমান যিনি হাজারো প্রতিকূলতার মাঝেও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে বহুদিনের সাধনা ও পরিশ্রমে মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র সংগ্রহ সংকলিত ও সংগৃহীত করেছিলেন। আমার পড়ার টেবিলে তাকে নিয়ে এক বিশাল সংকলন : আফজালুল বাসার, এষা হাসান ও মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান সম্পাদিত ‘হাসান হাফিজুর রহমান : বহুমাত্রিক মূল্যায়ন’।

এই সময়কালে আরও দুটি ভারী বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাচ্ছি : আবদুল মান্নান সৈয়দ সম্পাদিত ‘কাজী নজরুল ইসলাম স্মারকগ্রন্থ’ এবং মাহবুব উল্লাহ সম্পাদিত ‘বাংলা ভাষা স্মারক : মহান একুশে সুবর্ণজয়ন্তী গ্রন্থ’।

এর ফাঁকে নিবিষ্ট পাঠ চলছে ইতিহাস অন্বেষায়। আমার জন্মশহর জামালপুর। বাল্য ও কৈশোরের উন্মাতাল দিনগুলো কেটেছে এই শহরেই। পৈতৃক নিবাসও জামালপুর জেলায় গারো পাহাড়ের পাদদেশে। আমি খুঁজে ফিরছি এই এলাকার বিদ্রোহ ও সংগ্রামের কাহিনিগুলো। পাশাপাশি এ অঞ্চলের শিল্প, সাহিত্য,সংস্কৃতির ইতিহাস। এই মুহূর্তে আমার সামনে খোলা রয়েছে : কেদারনাথ মজুমদার, হরচন্দ্র চৌধুরী ও শৌরীন্দ্র কিশোর রায়চৌধুরীর বইগুলোর এক মলাটে কমল চৌধুরী কর্তৃক সংগৃহীত ও গ্রন্থিত ‘ময়মনসিংহের ইতিহাস, ‘বাংলাদেশ ডিসট্রিক্ট গ্যাজেটিয়ার্স : ময়মনসিংহ’ এবং সুপ্রকাশ রায়ের ‘ভারতের কৃষক-বিদ্রোহ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম’।


দীর্ঘদিন ধরে কতকগুলো লেখার কাজে হাত দিয়েছিলাম। সেই কাজগুলোরই ধারাবাহিকতা চলছে। আমাদের দেশের মুক্তি সংগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে স্কেচ ধরনের কিছু লেখা লিখছিলাম : মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধার দিনগুলো। এর ধারাবাহিকতা এখনও চলছে। নেতাজী সুভাষ বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজ ব্যাপক সাড়া তুলেছিল। এই ফৌজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন এই এলাকার লড়াকু মানুষরাও— হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে। একে কেন্দ্র করে উপন্যাস লেখা শুরু করেছিলাম। আংশিক প্রকাশও হয়েছিল। এই কাজটি সম্পন্ন করতে হবে। লিখছিলাম খণ্ড খণ্ড গল্প : কী করে একজন ত্যাগী সংগ্রামী মানুষ নায়ক হয়ে ওঠেন, সেখান থেকে মহানায়কত্বে আসীন হন এবং শেষ পর্যন্ত খলনায়কে বদলে যান। সময় পরিস্থিত বুঝে এ লেখাটিও শেষ করার দায় অনুভব করি।

আর এই মুহূর্তে কলম নিয়ে বসে আছি : বরেণ্য কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেড়শতম জন্মবার্ষিকে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   কী লিখছি  কী পড়ছি  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সাহিত্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: