স্মৃতি কখনো সুখের আবার দুঃখের

শাহনেওয়াজ

সাহিত্য

সে ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যপ্রিয় ও আড্ডাপ্রিয়। জন্ম পুরান ঢাকার আমলিগোলায়। তবে সেখানকার রাস্তার নাম জগন্নাথ সাহা রোড। ওই রোডে সময়ে-অসময়ে

2026-09-11T19:34:48+00:00
2026-09-11T19:34:48+00:00
 
  শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাহিত্য
স্মৃতি কখনো সুখের আবার দুঃখের
শাহনেওয়াজ
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
সে ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যপ্রিয় ও আড্ডাপ্রিয়। জন্ম পুরান ঢাকার আমলিগোলায়। তবে সেখানকার রাস্তার নাম জগন্নাথ সাহা রোড। ওই রোডে সময়ে-অসময়ে আড্ডায় মাতিয়ে রাখত সেই ছোটবেলা থেকে। লেখালেখির জগতে খুব অল্প সময়ে নাম ছড়িয়ে পড়ে। আর তিনি হলেন আমীরুল ইসলাম। তার বড় চাচা ছিলেন একজন খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক। যার লেখা ছোটদের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়। আর আমীরুল ইসলামের বড় চাচা হলেন হাবীবুর রহমান।

এত অল্প বয়সে একজন লেখকের বেশিসংখ্যক পুরস্কার বিরল। আবার শিশুসাহিত্য থেকে শুরু করে একেবারে উপন্যাস, গল্প লেখায় হাতে ছিল তার যশ। তবে আমীরুল ইসলাম ছড়াকার হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি লাভ করেন। অথচ তার ছড়া বইয়ের সংখ্যা মাত্র চার থেকে পাঁচটি। এর মধ্যে ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত হয় ‘খামখেয়ালি’। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে প্রকাশিত হয় ‘যাচ্ছেতাই’। আর ১৯৯২ সালে প্রকাশিত হয় ‘আমার ছড়া’।

আমীরুল ইসলামের পুরস্কারের সংখ্যাও কম নয়। ২০০৬ সালে শিশুসাহিত্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। আর অন্যান্য পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে— সিকান্দার আবু জাফর সাহিত্য পুরস্কার, নুরুল কাদের পুরস্কার, কবি শামসুর রাহমান সাহিত্য পুরস্কার, অন্নদা শংকর সাহিত্য পুরস্কার, কবি হাবিবুর রহমান পুরস্কার ইত্যাদি।

আমীরুল ইসলাম কবি হাবিবুর রহমান ও শিশুসাহিত্যিক সুকুমার বড়ুয়া নিয়ে বই লিখেছেন। যা শুধু সুখপাঠ্য নয়, তথ্যবহুল। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে আমীরুল ইসলামের লেখার হাত ছিল চারদিক। ডজনখানেক গল্পের বই রয়েছে। এর মধ্যে— আমি সাতটা, এক যে ছিল, দশটা দশ রকম, সার্কাসের বাঘ, ভূত এলো শহরে, আমি ওয়ান আমি টু, রোবট রহস্য, আমি মুক্তিযোদ্ধা হতে চাই, শাদা ভূত কালো ভূত।

আমীরুল ইসলাম বহুমুখী প্রতিভাবান শিশুসাহিত্যিক। গল্পের পাশাপাশি উপন্যাসও লিখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে— অচিন জাদুকর, আমাদের গোয়েন্দাগিরি, আশ্চর্য এক অ্যাডভেঞ্চার, ফানুসের দেশে অ্যাডভেঞ্চার, পিচ্চি ভূতের বাহাদুরি, একাত্তরের মিছিল। সবচেয়ে আর্শ্চযের বিষয় তার প্রথম বই খামখেয়ালি যখন প্রকাশিত হয় তখন তার বয়স মাত্র ২০ বছর। ওই বয়সেই তিনি বইটির জন্য অগ্রণী ব্যাংক, শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। এর আগে এত অল্প বয়সে আর কেউ পুরস্কার পাননি।

লেখালেখির পাশাপাশি আমীরুল ইসলাম কিশোরদের পাতার বিভাগের কাজ করেছেন। তিনি তৎকালীন দৈনিক বাংলার কিশোরদের পাতার বিভাগীয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন প্রায় পাঁচ বছর। এরপর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত কিশোর পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া চ্যানেল আইয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে যুক্ত হন।


বলা যায়, বাংলাদেশে শিশুসাহিত্যিক হিসেবে আমীরুল ইসলাম একজন অন্যতম সফল শিশুসাহিত্যে পদচারণা করেছেন। আমীরুল ইসলামের লেখার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, জাদুকরি শব্দচয়ন। যা লেখায় নতুনত্বের স্বাদ এনে দেয়। বিষয় বৈচিত্র্যে ও সংখ্যা বিচারে আমীরুল ইসলামের তুলনা সে নিজেই। শিশুসাহিত্যে আলী ইমামের বইয়ের সংখ্যা কম নয়।

আমীরুল ইসলাম একজন সার্থক লেখক হিসেবে যেমন আড্ডাপ্রিয়, তেমনি খুব অল্প সময়ে তার স্বভাবসিদ্ধ ব্যবহারে পরকে আপন করার বিশেষ গুণ ছিল। যে কারণে তার আড্ডা হয়ে উঠত এক প্রাণপ্রিয় মুখরা সময়।

আমলিগোলায় বসবাস করলেও তার আচরণে তেমন স্থানীয় ভাষার প্রভাব পড়তে দেখা যায়নি। সবসময় একগাল হাসি দিয়ে কথামালা তৈরি করতে তার জুড়ি নেই। অনেক সময় তৎকালীন দৈনিক বাংলায় সাত ভাই চম্পা পাতার দায়িত্বে থাকা আফলাতুন ভাইয়ের রুমে জম্পেস আড্ডা দিত অনেক শিশুসাহিত্যিক। এর মধ্যে লুৎফর রহমান রিটন, আসলাম সানি, খালেক বিন জয়েনউদ্দিন, ফারুক হোসেন, ফারুক নওয়াজ, সৈয়দ আল ফারুক, ইসমাইল হোসেন, সৈয়দ নাজাত হোসেনসহ আরও অনেকে। আবার শিশু একাডেমিতেও এ ধরনের আড্ডা চলেছে। এ ধরনের আড্ডার মধ্যমণি হয়ে উঠত আমীরুল ইসলাম।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   স্মৃতি  সুখ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সাহিত্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: