ঘৃণা ও ধর্মীয় উগ্রতার এই বাতাবরণে মান্টো

সময়ের আলো ডেস্ক

সাহিত্য

এ কথা অস্বীকার করার জো নেই যে বর্তমান সময়ে কথাশিল্পী ও উর্দু সাহিত্যের অনন্য-সাধারণ প্রতিভা সা’দত হাসান মান্টোর মতো একজন

2026-03-18T21:33:01+00:00
2026-03-18T21:33:01+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
সাহিত্য
মূল : আশরাফ লৌন
ঘৃণা ও ধর্মীয় উগ্রতার এই বাতাবরণে মান্টো
ভাষান্তর : মাহমুদ আলম সৈকত
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩৩ পিএম 
ডিজাইন : সময়ের আলো
এ কথা অস্বীকার করার জো নেই যে বর্তমান সময়ে কথাশিল্পী ও উর্দু সাহিত্যের অনন্য-সাধারণ প্রতিভা সা’দত হাসান মান্টোর মতো একজন লেখকের প্রয়োজন গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে। মানুষ প্রতিদিন যে হারে ঘৃণা, সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা ও ধর্মীয় উগ্রতার শিকার হয়ে উঠছে, তাতে সহজেই বলা যায়, বর্তমান সময় মান্টো অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এমনকি, আজকের দিনে মান্টোর প্রয়োজনীয়তা দেশভাগের সময়ের চাইতেও বেশি। 

মান্টো এমন এক সাহিত্যিক, যার গুরুত্ব কেবল উর্দু সাহিত্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তিনি বিশ্বসাহিত্যের মহৎ লেখকদের মধ্যেও সম্মানের আসন অধিকার করে আছেন। তিনি কেবল নিপীড়িত মানুষ, বিশেষকরে নারীদের জীবনসংগ্রাম ও যন্ত্রণার কথা লেখেননি; বরং দেশভাগ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকে কেন্দ্র করে এমন কিছু অনন্য গল্প রচনা করেছেন, যেখানে মানুষের অন্তর্লীন শয়তানি ও অমানবিক প্রবৃত্তির নির্মম রূপ উন্মোচিত হয়েছে। মান্টো মানবতার এহেন বিপর্যয় নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তাই তিনি শুধু মানুষের পশুত্বকে গল্পে তুলে ধরেননি, বরং সেই বর্বরতার তীব্র নিন্দাও করেছেন। 

মান্টো বেঁচে নেই, কিন্তু তাঁর লেখাগুলো দারুণ জীবন্ত। বরং আগের চেয়েও অধিক তাৎপর্যপূর্ণ। ধর্ম ও সম্প্রদায়ের নামে হত্যাকাণ্ড আজ, বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ায় মামুলি-স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এখন প্রায় প্রত্যেক মানুষ অন্যের ধর্মকে নিজের অস্তিত্বের জন্য এক ধরনের ‘ক্যান্সার’ বা হুমকি বলে ভাবতে শুরু করেছে, এবং সেই ‘অপর’কে মুছে ফেলাই যেন তার উদ্দেশ্যে পরিণত হচ্ছে।

ধর্মীয় উগ্রতা এক নতুন ও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, যা দিন দিন আরও বিকৃত ও হিংস্র হয়ে উঠছে। অধুনা বিশ্বের কোথাও কোথাও ভিন্ন ধর্ম বা সম্প্রদায়ের কাউকে হত্যা করা বা আক্রমণ করা অনেকের কাছে আর পাপ বলে বিবেচিত হয় না; বরং এমন জঘন্য অপরাধ অনেক সময় গর্বের সঙ্গে সংঘটিত হয়, আইনকানুনের তোয়াক্কাও করা হয় না। ধর্মের ব্যাখ্যা এখন অনেক সময় ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে বিকৃত করা হচ্ছে, মানুষকে বোঝানো হচ্ছে, ভিন্ন ধর্ম বা সম্প্রদায়ের মানুষরা ‘অবশ্যই একে অপরের শত্রু’, এবং তাদের মধ্যে সংলাপ বা সহাবস্থানের কোনো স্থান নেই। ফলে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।

আজ যার হাতে ক্ষমতা, সে-ই নিজের ধর্মকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করে এবং অন্যদেরকে নিকৃষ্ট বলে অবজ্ঞা করে। এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইরান, আমেরিকা, ফ্রান্সসহ পৃথিবীর নানা দেশে। সর্বত্রই ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো: ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে মধ্যপন্থী ও ধর্মনিরপেক্ষ মানুষের জন্য জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। আবার অন্যদিকে ইউরোপ ও আমেরিকার কিছু দেশে ধর্মকে যথেচ্ছা অপমান করা হয়, যা উগ্রতার আগুনে আরও ঘি ঢালে এবং চরমপন্থীদের খোঁড়া অজুহাতকে শক্তিশালী করে।

মান্টো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নিয়ে অসাধারণ সব গল্প লিখেছেন। তিনি দেশভাগ ও দাঙ্গার জন্য দায়ী মানুষদের কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। ঘৃণা ও ধর্মীয় উগ্রতার যে পরিবেশ মানুষকে শত্রুতে রূপান্তরিত করে এবং রক্তপাত ঘটায়, মান্টো তার তীব্র নিন্দা করেছেন।

তাঁর বিখ্যাত গল্প ঠান্ডা গোশত্-এ তিনি অমানবিকতার এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন যা কেবল মান্টোর মতো লেখকই ফুটিয়ে তুলতে পারতেন। গল্পে ঈশ্বর সিংহ নামের এক চরিত্রের মুখে আমরা শুনি, “কুলবন্ত জান, কী যে অপূর্ব সুন্দর ছিল মেয়েটা! চাইলে মেরে ফেলতে পারতাম। কিন্তু নিজেকে বুঝাইলাম, না রে ঈশ্বর সিং, তুই তো রোজই কুলবন্ত কৌরকে লাগাস; আজকে একটু অন্য রকম ফলের টেস্ নেওয়া যাক।” এই কথোপকথনের ঠিক পরের মুহূর্তে ঈশ্বর সিং স্বীকার করে, “আমি হাত থিকা যেন তাসের শেষ পাত্তিটা বের হয়আ গেলো…কিন্তু…কিন্তু…সে তো মরা লাশ, কুলবন্ত, একটা মরা লাশ, এক টুকরা ঠান্ডা গোশত্।” এই গল্পে আমরা দেখতে পাই, মৃতশরীরের সঙ্গে যৌন সংসর্গের ঘৃণ্য প্রচেষ্টার মধ্যে দিয়েই ঈশ্বর সিং নপুংসক হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত তারই প্রণয়িনী কুলবন্ত কৌরের হাতে নিহত হয়। 

মান্টো এখানে কেবল একজন ব্যক্তির গল্প বলেননি; তিনি মানুষের অন্তর্নিহিত পশুত্বের এক গভীর প্রতীকী রূপ তুলে ধরেছেন। আবার ঈশ্বর সিং নিজের অপরাধও যেমন উপলব্ধি করে, তেমনি অনুশোচনাও অনুভব করে। কিন্তু আজকের বাস্তবতায় যেন অসংখ্য ঈশ্বর সিং আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যারা নিজেদের অপরাধের জন্য লজ্জিত নয়, বরং অনেক সময় সেটিকেই গর্বের বিষয় হিসেবে উদযাপন করে।

মান্টোর সময়েও নারীরা সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হতো। ধর্ষণ, হত্যা—এসব ঘটনা তখনও ঘটত। কিন্তু তখনকার অপরাধ আজকের মতো প্রযুক্তির সাহায্যে ভিডিও করে প্রচার করা হতো না। আজকের যুগে অপরাধ ও অমানবিকতার রূপ যেন আরও ভয়াবহ ও বিকৃত হয়ে উঠেছে। 

মান্টোর আরেকটি বিখ্যাত গল্প ‘খোল দো’ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পটভূমিতে রচিত। এই গল্পে আমরা দেখি বৃদ্ধ সিরাজুদ্দিনের অসহায়ত্ব। দাঙ্গার বিশৃঙ্খলায় তিনি তার কন্যা সাকিনাকে হারিয়ে ফেলেন এবং সেই সঙ্গে নিজের মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন প্রায়। তিনি দিশেহারা হয়ে খোঁজ করতে থাকেন মেয়ের, কিন্তু কোনো হদিশ পান না। অবশেষে কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবকের কাছে অনুরোধ করেন তার মেয়েকে খুঁজে দেওয়ার জন্য। স্বেচ্ছাসেবকেরা সাকিনাকে খুঁজে পেলেও সে তাদের লালসার শিকার হয়। 

মান্টো এখানে দেখিয়েছেন, সাম্প্রদায়িক উন্মত্ততার সময় মানুষ কীভাবে তার মানবিকতা হারিয়ে ফেলে এবং পশুত্বে অবনমিত হয়। গল্পের সেই বিখ্যাত দৃশ্যে তিনি লিখেছেন, ডাক্তার স্ট্রেচারে পড়ে থাকা শরীরটার দিকে তাকাল। তার নাড়ী পরীক্ষা করল। তারপর সিরাজুদ্দিনকে বলল, “জানালাটা খোলো…।” সাকীনার মৃত শরীরটা যেন নড়ে উঠল! তার নিষ্প্রাণ হাত দুটো পাজামার দড়ি খুলে পাজামাটা নামিয়ে দিল! বুড়ো সিরাজুদ্দিন অভাবিত আনন্দে চিৎকার করে উঠল, “বেঁচে আছে… আমার মেয়েটা বেঁচে আছে…!” ডাক্তারের মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঘামের শীতল স্রোত বয়ে গেল! এই দৃশ্য পাঠ করে, কেবল গল্পের ডাক্তারই নয়, পাঠকের মনেও যেন এক শীতল আতঙ্ক নেমে আসে। মানবতার বিবেক যেন মুহূর্তে কেঁপে ওঠে।

ইতিহাসের নানা সময়ে মানবতা এমন মর্মন্তুদ আতঙ্কের মুখোমুখি হয়েছে, যেমন মুজাফফরনগর বা গুজরাটের সাম্প্রদায়িক সহিংসতায়। সেখানে অসংখ্য নারী নির্যাতিত হয়েছে, শত শত মানুষ, নারী, শিশু ও বৃদ্ধ, নৃশংসভাবে নিহত হয়েছে। “খোল দো”-এর স্বেচ্ছাসেবকেরা অন্তত সাকিনাকে জীবিত রেখেছিল, কিন্তু বাস্তবের অনেক ঘটনায় নির্যাতিত নারীদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ঘটনাও ঘটেছে। এমন নির্মম বাস্তবতার বর্ণনা লিখতে গেলে হয়তো মান্টোর কলমও কেঁপে উঠত। তবু আজকের যুগে আমরা এমন একজন লেখকের অভাব বোধ করি, যিনি নির্ভীকভাবে এই অমানবিক বাস্তবতাকে সাহিত্যের মাধ্যমে তুলে ধরতে পারেন। আজকের উপমহাদেশে অসংখ্য “সাকিনা” আছে, কিন্তু তাদের বেদনা ও অবহেলার গল্প বলার মতো আর কোনো মান্টো নেই।

মান্টো কখনো কোনো ধর্মকে উপহাস করেননি। বরং তিনি তীব্রভাবে ঘৃণা করতেন ধর্মের নামে ভণ্ডামি এবং গোঁড়ামিকে। তার সময়েও স্বঘোষিত ধর্মের ঠিকাদারেরা সাধারণ মানুষকে শোষণ করত এবং ধর্মীয় উগ্রতা ছড়াত। কিন্তু তখন মান্টোর মতো এক অসাধারণ প্রতিভা ছিলেন, যিনি তার তীক্ষ্ণ কলম দিয়ে সেই অন্ধকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারতেন। 

আজও কিছু লেখক আছেন, কিন্তু তাদের অনেকেই ধর্মীয় উগ্রতা বা বিশ্বাসের নামে সংঘটিত সহিংসতার বিরুদ্ধে সরব হওয়ার বদলে বরং অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করে বই বিক্রি ও খ্যাতি অর্জনেই বেশি আগ্রহী। ফলে তারা মান্টোর ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ, সততা এবং মানবিক গভীরতার সামনে দাঁড়াতে পারেন না। 

মান্টো মানুষের পশুত্বের চিত্র যেমন এঁকেছেন, তেমনি মানুষের মধ্যেকার ভালোবাসা ও সহমর্মিতার সৌন্দর্যও তুলে ধরেছেন। 

তার গল্প ‘মোজেল’ সেই উদাহরণগুলোর একটি। এখানে ভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক যেমন দেখানো হয়েছে, তেমনি দেখানো হয়েছে ধর্মীয় উন্মত্ততা কীভাবে মানুষকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেয়। এই ছোটগল্পে মান্টো’র ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে ‘মোজেল’ চরিত্রটির মাধ্যমে। মোজেল ত্রিলোচনকে ভালোবাসে, কিন্তু একই সঙ্গে সে ত্রিলোচনের ধর্মীয় দেখনদারিকে ঘৃণা করে। সম্ভবত এই ঘৃণার কারণ হলো, মোজেল ধর্মের নামে সংঘটিত দাঙ্গা ও সহিংসতার ভয়াবহতা খুব কাছ থেকে দেখেছে। সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে নিরীহ মানুষদের নির্মমভাবে খুন হতে সে দেখেছে।

আজও আমাদের চারপাশে অসংখ্য ‘মোজেল’ আছে, যারা তাদের বন্ধুদের জন্য আত্মত্যাগ করতে প্রস্তুত, এবং যারা দেখেছে কিভাবে শত শত মানুষ ধর্মীয় উগ্রতার ফাঁদে আটকে যাচ্ছে। হয়তো এই মোজেলরাই অপেক্ষা করছে এমন কোনো মান্টোর জন্য, যার সঙ্গে তারা তাদের বেদনাময় গল্পগুলো ভাগ করে নিতে পারবে। এই মোজেলদের দেখা যায় ইরান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, মিয়ানমার-সহ পৃথিবীর আরও নানা স্থানে। এই মোজেলই, উঠে দাঁড়িয়ে তার স্বভাবসুলভ আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে সাজানো বাদামি চুলগুলো ঝাঁকিয়ে বলল, “তোমার দাড়িটা কামিয়ে ফেলো এবং চুলগুলো খুলে দাও। এটা করতে পারলে, দেখবে ছেলেরা তোমার দিকে চোখ টিপছে, তুমি খুবই সুন্দর!”

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় মোজেল কিরপাল কৌরকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেই নিহত হয়। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মোজেলের কয়েকটি কথা ধর্মীয় উগ্রতার প্রতি তার ঘৃণাকে স্পষ্ট করে তোলে, মোজেল ত্রিলোচনের পাগড়িটি খুলে ফেলল। ‘এটা সরাও, তোমার এই ধর্ম,’ বলতে বলতে তার শরীরটা শক্ত বুকের ওপর নিথর হয়ে পড়ল।
আসলে মোজেল ধর্মীয় প্রদর্শনবাদ এবং ধর্মীয় উগ্রতাকেই ঘৃণা করে। সে ত্রিলোচনের পাগড়িকে ঘৃণা করে, কিন্তু ত্রিলোচনকে নয়। আজকের পৃথিবীতে ধর্মের নামে নিরীহ মানুষের রক্ত মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে ঝরছে। মানুষ মানবতার প্রতি সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলেছে, কতকত রক্ত ঝরছে, কতশত মানুষ মরে যাচ্ছে, যেন তার আর কোনো মূল্য নেই, হিসাবেরও বালাই নেই। 

আইএসআইএস, বোকো হারাম, তেহরিক-ই-তালিবান, হিন্দুত্ব-সহ নানা ধর্মীয় উগ্রবাদী শক্তি নিজেদের মতো করে ধর্মকে ব্যাখ্যা করেছে; তাদের মতে অন্য ধর্মের মানুষকে সহজেই হত্যা করা যায়। এসব উগ্রবাদী সংগঠন সংলাপে বিশ্বাস করে না, তাদের কাছে যুক্তিরও কোনো স্থান নেই। তারা বিশ্বাস করে শুধু ঘৃণা এবং হত্যার রাজনীতিতে। প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি ধর্মই শান্তি ও সম্প্রীতির বাণী বহন করে। কিন্তু বারবার সেই ধর্মকেই ব্যবহার করা হয়েছে কু-উদ্দেশ্য পূরণে এবং অসহায় ও দরিদ্র মানুষের ওপর শোষণ চালাতে। এই শোষণ আজও চলছে; কিন্তু আজ অনুপস্থিত ‘মান্টো’, যিনি এমন উগ্রতা ও শোষণের বিরুদ্ধে কলম ধরতেন। যেমনটি যথার্থই বলেছেন খ্যাতনামা উর্দু কবি ফাহমিদা রিয়াজ, “মান্টোর পর আর মান্টোর মতো কেউ নেই।”


লেখক পরিচিতি 

মাহমুদ আলম সৈকত। গদ্যকার ও অনুবাদক। কুমিল্লায় জন্ম, চট্টগ্রাম শহরে বসবাস, ঢাকায় অভিবাসী। বেসরকারি সাহায্য সংস্থায় কর্মরত। উর্দু সাহিত্যে বিশেষ অনুরাগী।

পাঁচটি অনুবাদ গ্রন্থ প্রকাশিত। ফয়েজ আহমদ ফয়েজের কবিতা, ইন্তিজার হোসেনের গল্প সংকলন, সাউথ এশিয়ার ছয়টি দেশের গল্পের অনুবাদ সংকলন, তিনা মোদোত্তির শিল্প, জীবন ও রাজনীতি; মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী নারী কবিদের কাব্য সংকলন তার উল্লেখযোগ্য কাজ।



  বিষয়:   কথাশিল্পী  উর্দু  সাহিত্য  সা’দত  হাসান  মান্টো 


Loading...
Loading...
সাহিত্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: