সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ডা. আলী লারিজানিকে হত্যার প্রতিশোধের অংশ হিসেবে ইসরাইলে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে ইরান। তেল আবিবসহ দেশটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের সামরিক ও সরকারি স্থাপনায় বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এসব হামলা চালায় বলে জানিয়েছে আলজাজিরা ও প্রেস টিভি।
হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে খোররামশাহ-৪ এবং কদর ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি এমাদ ও খেইবার শেকান প্রজেক্টাইল। শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরাইলের বিভিন্ন শহরে আঘাত হানে। বিশেষ করে গুরিয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, যেখানে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান রাখা ছিল।
তবে ইসরাইলি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, তেল আবিবের কাছে বেন গুরিয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তিনটি বেসরকারি বিমান ‘মারাত্মকভাবে’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত কয়েক দিনে এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি বিমানে আগুন ধরে গিয়েছিল বলেও জানানো হয়েছে।
এর আগে বুধবার ইরান জানায়, বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর রিফুয়েলিং জেটে ড্রোন হামলা লিয়েছে আইআরজিসি।
ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা অধিকৃত অঞ্চলে জায়নবাদী শাসকের জ্বালানি সরবরাহকারী জেটে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানি সেনাবাহিনী জানায়, বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে অবস্থানরত জায়নবাদী শাসকের কৌশলগত রিফুয়েলিং বিমানগুলোকে লক্ষ্য করে একঝাঁক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
সেনাবাহিনী আরও অঙ্গীকার করেছে, ইরানি শহিদদের রক্তের প্রতিশোধ নিতে মার্কিন ও ইসরাইলি শত্রুদের বিরুদ্ধে এই প্রতিশোধমূলক অভিযান দৃঢ়তার সঙ্গে অব্যাহত থাকবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কমান্ডার ও বেসামরিক নাগরিককে হত্যার পর মার্কিন ও ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠী ইরানের বিরুদ্ধে উস্কানিহীন ও ব্যাপক সামরিক হামলা শুরু করে।
এ আগ্রাসনে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবস্থানগুলোতে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ফলে প্রচুর হতাহত এবং অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও অধিকৃত অঞ্চল এবং আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ঢেউ আছড়ে ফেলে পাল্টা প্রতিশোধমূলক অপারেশন পরিচালনা করছে।
সময়ের আলো/আআ