গাজীপুরের শ্রীপুরে শীতলক্ষ্যা নদীর তীর দখল করে প্রকাশ্যে মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। ডাম্পট্রাক ও ইঞ্জিনচালিত নৌকার মাধ্যমে নদী তীরের মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে কিংবা তোয়াক্কা না করেই একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অসহায় হয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিন উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরামা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে খনন করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। নদীর তীর কেটে এক্সেভেটরের মাধ্যমে মাটি তুলে তা ডাম্পট্রাক ও ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে আশপাশের বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে মাটি সরিয়ে নেওয়ায় তীরবর্তী এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বরামা গ্রামের বাচ্চু নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দিন-রাত অবিরামভাবে এই মাটি লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে। আগে গভীর রাতে গোপনে মাটি কাটা হলেও বর্তমানে তা দিনদুপুরেই প্রকাশ্যে করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কয়েক মাস ধরে মাটিখেকোরা নদীর তীর কেটে মাটি নিয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এভাবে মাটি কাটতে থাকলে আগামী বর্ষায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দেবে। আমাদের ঘরবাড়ি, গাছপালা নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
নদীপাড়ের এক নারী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, ওরা প্রকাশ্যে মাটি কাটে। সবাই জানে কারা করছে, কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছে না। বাধা দেওয়ার মতো সাহস আমাদের নেই।
এ বিষয়ে বরমী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. রতন মিয়া বলেন, মাটি কাটার বিষয়টি আমাকে আগে কেউ জানায়নি। বিষয়টি জেনে প্রশাসনকে অবহিত করা হবে এবং দ্রুত বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরমী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলুআরা খাতুন বলেন, দুয়েক দিন আগে বিষয়টি জানতে পেরে আমি বাধা দিয়েছি এবং কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বর্তমানে ঈদের ছুটিতে আছি। এই সুযোগে চক্রটি আবার মাটি কাটা শুরু করেছে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। দ্রুত তদন্ত করে মাটিখেকোদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে মাটি কাটা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ নদীভাঙনের মুখে পড়বে পুরো এলাকা।
সময়ের আলো/আআ