চার বছর পর আবারও দুয়ারে কড়া নাড়ছে এশিয়ান গেমস হকি বাছাইপর্ব। ৯ দলের অংশগ্রহণে আগামী ২৮ মার্চ প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে চলবে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত (সম্ভাব্য সূচি)। ওমানের মাস্কট শহরে এবারের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ পুল ‘বি’ থেকে অংশ নেবে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ চাইনিজ তাইপে, উজবেকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। পুল এ-তে রয়েছে হংকং, ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান, থাইল্যান্ড এবং স্বাগতিক ওমান। ছয় দল চূড়ান্তপর্বে জায়গা করে নেবে। আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য বাংলাদেশের। এমন কথাই সময়ের আলোকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের প্রধান কোচ মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান।
চ্যাম্পিয়নশিপে পাখির চোখ রেখে অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন দলের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড পুষ্কর খীসা মিমো, সময়ের আলোচিত ফরোয়ার্ড রাকিবুল হাসান রকি এবং গত বছর অনূর্ধ্ব-২১ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা গোলরক্ষক আশরাফুল হক সাদ। দলকে শিরোপা জেতাতে বদ্ধপরিকর হকি দলের এ তিন কান্ডারি। সময়ের আলোর সঙ্গে আলাপনে এমনটাই জানিয়েছেন মিমো, সাদ, রাকিবুলরা।
চার বছর আগে বাছাইপর্ব পেরিয়ে এশিয়ান গেমসের চূড়ান্তপর্বে খেলেছিল লাল-সবুজের দল। ২০২২ সালে চীনের গুয়াংজু শহরে অনুষ্ঠিত ওই আসরে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে পারেনি বাংলাদেশ। ওমানের কাছে হেরে সপ্তম স্থানে থেকে আসর শেষ করেছিল। এবার শুরু থেকেই সাবধানী বাংলাদেশ।
বাছাইপর্ব থেকেই নিজেদের সেরারূপে প্রমাণে ব্যস্ত আশিকুজ্জামান শিষ্যরা। এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্ব সামনে রেখে গত মাস থেকে মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে চলছে প্রস্তুতি ক্যাম্প। শুরুতে ৩৬ জন নিয়ে ক্যাম্প শুরু হলেও এখন তা ২৬ জনে নেমে এসেছে। এখান থেকে ১৮ জন (স্ট্যান্ড বাইসহ ১৯ জন) যাবেন ওমানে। এমন কথাই জানিয়েছেন প্রধান কোচ আশিকুজ্জামান। কখনো এক বেলা আবার কখনো দুই বেলার পূর্ণ প্রস্তুতি ছিল দলের। ঈদের ছুটি পাঁচ দিনের থাকলেও সেখানে দুদিনের ঐচ্ছিক অনুশীলনের বাধ্যতামূলক রুটিন শিষ্যদের বেঁধে দিয়েছেন আশিক।
এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বে ম্যাচ বাই ম্যাচ এগোনোর পরিকল্পনা আশিকুজ্জামানের। প্রথম লক্ষ্য কোয়ালিফাই করা। এরপর সেমিফাইনাল পর্বে ভালো করে ফাইনালে জায়গা করা। তারপর শিরোপা জিতে ওমান থেকে দেশে ফিরতে চান আশিক। দেড় মাসের অনুশীলন ক্যাম্পে শিষ্যদের ফিটনেস নিয়ে বেশি কাজ করেছেন। পাশাপাশি অন্যান্য দিকও ছিল।
জাতীয় দলের আগের ক্যাম্পে সহকারী কোচ ছিলেন আশিকুজ্জামান। প্রধান কোচ ছিলেন ডাচ আইকম্যান। বিদেশি কোচ আইকম্যান যুব বিশ্বকাপে দুর্দান্ত কাজ করেছিলেন। আইকম্যান যেভাবে ট্রেনিং দিয়েছিলেন, আশিকুজ্জামান সেই ট্রেনিংয়ের বেশিরভাগই এশিয়ান গেমসের ক্যাম্পে চলমান রেখেছেন।
এর সঙ্গে নিজের বাড়তি কিছু যোগ করেছেন। শিষ্যদের ফিটনেসে দারুণ খুশি তিনি। আশিকুজ্জামান বলেন, প্রথম দিন যে ফিটনেস নিয়ে ছেলেরা ক্যাম্পে এসেছিল, সেই তুলনায় এখন তাদের ফিটনেস লেভেল অনেক ভালো।’
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও জাতীয় দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড পুষ্কর খীসা মিমো। দলের সঙ্গে দারুণভাবে ট্রেনিংয়ে সময় পার করছেন। জাতীয় দলে ফিরতে পেরে দারুণ খুশি। এখন তার লক্ষ্য ১৮ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা করে নেওয়া। সেই লক্ষ্যে অবিচল মিমো। বছরের পর বছর নিজের ফর্ম আর পরিশ্রম দিয়েই জাতীয় দলকে সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছেন। বাছাইপর্বেও সেই ধারা অব্যাহত রেখেছেন। ২০১০ সালে গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে তার প্রথম পথচলা। এ পর্যন্ত চারটি এশিয়ান গেমস খেলা হয়ে গেছে। পঞ্চমবারের মতো খেলার অপেক্ষায় রয়েছেন।
জাতীয় দলের নিয়মিত মুখ এখন রাকিবুল হাসান রকি। বয়সভিত্তিক দলে যেমন অনন্য-অপরিহার্য, তেমনি জাতীয় দলেও প্রথম পছন্দ। এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি ক্যাম্পে বেশ ভালোভাবেই নিজের প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন।
রকি আশাবাদী আসরে চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে ঘরে ফিরবে তার দল। এদিকে প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন গোলরক্ষক আশরাফুল হক সাদ। যুব বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার স্বরূপ জাতীয় দলে ডাকা হয়েছে তাকে। বিপ্লব কুজুরের মতো অভিজ্ঞ গোলরক্ষক রয়েছে স্কোয়াডে। যুব বিশ্বকাপে খেলা সাদের সতীর্থ মাহমুদও রয়েছেন এশিয়ান গেমসের দলে। এখন থেকে দুজন পাবেন চূড়ান্ত দলের টিকেট। আর সেই টিকেটটা পাওয়ার ব্যাপারে দারুণ আশাবাদী আশরাফুল সাদ।
নতুন সরকারের আমলে হকির প্রথম বিদেশ সফর। এই সফরে নিজেদের প্রত্যাশার চেয়ে সেরাটা দিতে প্রস্তত মিমো, রাকিবুলরা।
সময়ের আলো/আআ