রাতের গভীর গান
তোমার অধিক তোমাকে চেয়েছি
আমি আর কার যাই তোমাকে ছেড়ে
শাহবাগানের ঘোড়াগুলি জানে
—গভীর রাতে সদরঘাটে চমকায় যখন সুর
আমার দু-চোখ ঝলসে দিয়েছিলো
নূর—জাহানের নূর
হৃদয় আমার ঝলসে দিয়েছিলো
তোমার অধিক তোমাকে চেয়েছি
আমি আর কার কাছে যাই
আয়না আমার নিমজ্জিত জালালপুরে
সুর
আর সুরায় ময়ূরেময়ূর
সুরের হৃদয়ে শুধু সুর জালালপুরে
আমি আর কার কাছে যাই তোমাকে ছেড়ে
শাহবাগানে
না ফুলবাগানে
দোজখে না
বেহেস্তে না
না হুরবাগানে
এই হৃদয়ে তোমাকে খুঁজেছি আমি
গভীর রাতে সদরঘাটে চমকায় যখন সুর
আমার হৃদয় ঝলসে দিয়েছিলো
নূর—জাহানের নূর
মুখ
আহ্ হাওয়া তুমি বহুদূর থেকে
ভাসিয়ে আনছো তার মুখ
আহ্ হাওয়া
থেকে থেকে নক্ষত্র ইন্দনে
আমার এই রাত্রি চুলা ফুঁসে উঠছে
উৎরাচ্ছে তিমির
হাঁড়িতে চড়িয়েছি আস্ত চাঁদ
মাতালেরা আসবে
বাটি বর্তি খেতে দিবো চাঁদ
আর মদ ঢালতে ঢালতে শুধাইবো
তোমরা কি দেখছো তাকে,যার
অর্ধেক পূর্ণিমা অর্ধেক গোলাপ বাগান?
ঈগলের ডানা
স্বরণী থেকে সরাইখানা
জলপাই রঙ
ঘর আর ঘুম জুড়ে
জলপাই রঙ
গানে কবিতায় মেঘ থম থম
স্বরণী আর ঘুম জুড়ে রক্ত প্রবাহিত
এমন আলো নেই?
জল থেকে
মাটি থেকে
আকাশ থেকে পৃথক করবে জলপাই রঙ।
ঘর আর ঘুম জুড়ে নদী প্রবাহিত।
আকাশ সুমশান—
বনবাস
তেরোটি খোঁপা ছড়ানো চত্বরে
আমার হৃদয় খুবলে নিয়েছে চঞ্চু
আমি তো যাইনি হরিণ শিকারে
আমি যাইনি হরিণ শিকারে
বিকার গ্রস্ত তারারা যত
অবিরত ঘুরছে বলগাহরিণের মত
তেরটি খোঁপা ছড়ানো চত্বরে
কোন সকালে ছেড়েছি ঘর
মেঘে মেঘে কেটেছে সারাবেলা
ফুল আর কাঁটায় কেটেছে সারাবেলা
ভেবেছি আমি শুনেছি তোমার স্বর
অরণ্যগভীর নির্জনতায় এসে
বকুলতলা
নদীর পাত্রে চাঁদ
চাঁদে ভাসছে ফুল
শীত লাগে রে
ধরি ঠোটে
—হারমনিকা
সে আয়না বাজায়
— রক্তে লাগে
বনের মাজের নদী
হয়েছে ঘন
একটা পাগলা নৌকা কাটছে সাঁতার
গভীর বনে আয়না মহল
নদীর পাত্রে চাঁদ
চাঁদে ভাসছে ফুল
নেশা হয়েছে গাঢ়
একটা পাগলা নৌকা কাটছে সাঁতার
ফুল
নদী
চাঁদ
— জুড়েছে গান
জলের শরীর চুমে চুমে
ভেসে যাচ্ছে হীম
কাঠের অর্গ্যান
আর তারা নয় যেন
বকুল
বকুল ছড়ানো আসমান
এফআর