চক্রাবর্ত
ভোরের নদীর দূর
মানুষ ও কুকুর
ঢেউ ভাঙা ঘুম
যারা কিছুতেই গাইতে চাচ্ছে না জীবনের গান,
তাদের জন্য জীবন কোনও
নান্দনিক পরিসর রেখেছে কিনা!
পরিস্থিতি পুরোপুরি হিলিং স্টেশন।
খোলা আছে কিছু কুসুমের কারখানা;
দেখে আসা যাক
আর একটা সুবাসহারা দিনের দিকে
কীভাবে দৌঁড়াচ্ছে মানুষ
কীভাবে কুকুর।
বেলা তার
আমার হ্রেষা তুমি ফেলে এসেছ সে এক আস্তাবলে যেখানে ঘোড়ার চেয়ে গাঢ় থাকবে কুয়াশা। মানুষ তার আতুঁড়ঘরে মূলত তার মৃতদেহের জন্ম বরণ করে থাকে। তারপর অতঃপর তুরিনের প্রান্তরে, আমাদের সম্ভাব্য শ্বাস মজমা বসায়। কদাচিৎ আলু খায়। কুয়ায় পানি শুকায়। শর্করার মধ্যে চুলায় বেশি সেদ্ধ হয় স্মৃতি। অন্ধকার আগামী। হু হু, ধু ধু। প্রচুর পাখি তবু আকাশ একাকি। প্রেমের পরিত্যক্ত বস্তা নর্দমায় ফেলে দিয়ে আসি। কফিনবন্ধুর দল চুক্তি করছে প্রয়াতের আজন্ম শত্রুর সঙ্গে। ঝড়। বাদল। হাওয়া। ধূলা। বালি। মেঘ। স্বপ্ন। রক্ত। তুরিনের মাঠে আমাকে সঙ্গ দিচ্ছে আমার মৃতদেহ।
ইহা
ক্ষুধিত কুসুম,
কারও চোখের তৃষ্ণা তাড়ায়।
মাঘ মাস ক্যালন্ডারে আছে
আদতে নেই,
জঙ্গল-বাগানে যেখানে পেরেছি
আজীবন বন্ধুবান্ধব বুনেছি;
যারা দেবে আততায়ী ছায়া...
পৃথিবীর পয়মন্ত পাঠশালায়
আমি অনক্ষর,
স্বপ্নে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর।
বৃত্তায়িত
যেখানেই থাকি
সন্ধ্যা হয়,
যেভাবে সকাল।
স্মৃতির মতো প্রাচীন মদে
অধ্যুষিত সাগর-সরোবর,
আর যাই না পানি-পথে তাই;
শুধু সন্ধ্যা হই
প্রেতের প্রেম দেখি
তমসার শেকড়ে
তারার শিখরে।
এভাবে সকালও হবো
অথবা
সন্ধ্যায় থেমে থাকবো।
হেমা
যত উৎখাত করি
তত আমি জেঁকে বসি
অতি নাজুক বাংলা কবিতায়;
কীভাবে নেবে সে
উইন্টার-এসিডের মতো
এত আমার ভার!
চোখের আবহাওয়া যা-ই থাকুক,
মন জানে
দুনিয়া দ্রষ্টব্যে সীমাবদ্ধ।
নিরিবিলি রাতভর ভায়াব্রেশন,
একটা ফুল
অন্য একটা ফুলের
ঝরে পড়ার
নৈঃশব্দ্যে মুখর।
অলীক বস্তির চুলায়
ডাল রাঁধা হয়
কেউ তাতে
জলপাই দেয়,
পশুরাও পিকনিক শেষ করে
অসহ্য শৃঙ্খলায় ফিরে।
স্থির-কম্প বাংলা কবিতা;
যত উৎখাত করি
তত আমি ক্ষণিক,
তত অনন্ত।