বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক উজ্জ্বল নাম সন্জীদা খাতুনের প্রয়াণের এক বছর পূর্ণ হলো আজ। গত বছরের এই দিনে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই গুণী ব্যক্তিত্ব। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
সন্জীদা খাতুন শুধু একজন সংগীতসাধকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তার হাত ধরেই গড়ে ওঠে দেশের শুদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চার অন্যতম কেন্দ্র ছায়ানট, যা আজও সংগীত ও সংস্কৃতির ধারক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
১৯৩৩ সালের ৪ এপ্রিল জন্ম নেওয়া সন্জীদা খাতুন ছিলেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ কাজী মোতাহার হোসেনের কন্যা। শিক্ষা জীবনে তিনি পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি রবীন্দ্রসংগীত ও সংস্কৃতিচর্চায় নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন।
আরও পড়ুন
শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হয়ে দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেন তিনি। পাশাপাশি সংগীতচর্চা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে ভাষা আন্দোলন ১৯৫২-এর সময় ছাত্রাবস্থায় তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। সহযোদ্ধাদের কাছে তিনি ‘মিনু আপা’ নামেই পরিচিত ছিলেন।
তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন এই মহান ব্যক্তিত্বকে। তাদের মতে, সন্জীদা খাতুনের অবদান শুধু সংগীতে নয়- বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক চেতনা নির্মাণেও তিনি এক অবিস্মরণীয় নাম।
এএডি/