মধ্যপ্রাচ্যে টানা ২৬ দিন ধরে যুদ্ধ চলমান। এরইমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে পাকিস্তানগামী একটি কনটেইনার জাহাজ আটকে দিয়েছে ইরান। জাহাজটির নাম ‘সেলেন’, এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ নোঙর এলাকা থেকে করাচির দিকে এগোচ্ছিল।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকায় প্রণালির প্রবেশমুখ থেকেই জাহাজটিকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।
এ বিষয়ে আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি এক বার্তায় বলেন, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা এবং হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি না থাকায় কনটেইনার জাহাজ সেলেনকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই জলপথ দিয়ে যেকোনো জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে। পারস্য উপসাগরকে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করেছে এই নৌপথ।
উল্লেখ্য, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বে মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। তবে সাম্প্রতিক হামলার কারণে প্রায় সব ট্যাংকার চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
তেহরান জানিয়েছে, ‘অ-শত্রুভাবাপন্ন’ জাহাজগুলো চাইলে আগাম সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে। তবে শত্রুপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর জন্য এই পথ বন্ধ থাকবে।
এদিকে, চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত’ আলোচনা আয়োজনের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং তুলনামূলক নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণে এ ভূমিকায় আসতে চাইছে ইসলামাবাদ।
তবে, এখন পর্যন্ত ইরান সব ধরনের আলোচনার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশ্লেষকরা বলছে, পাকিস্তান যদি আলোচনার আয়োজন করতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির গুরুত্ব অনেক বাড়বে।
/ইউএমএইচ