গণভোট বাতিলের প্রস্তাবে আপত্তি জামায়াতের

সংসদ প্রতিবেদক

জাতীয়

গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের জন্য সরকারি দল বিএনপির পক্ষ থেকে সংসদের বিশেষ কমিটিতে প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংসদের প্রধান

2026-03-26T01:46:17+00:00
2026-03-26T01:46:17+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
জাতীয়
গণভোট বাতিলের প্রস্তাবে আপত্তি জামায়াতের
সংসদ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১:৪৬ এএম   (ভিজিট : ৯৯)
সংগৃহীত ছবি
গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের জন্য সরকারি দল বিএনপির পক্ষ থেকে সংসদের বিশেষ কমিটিতে প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াত ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান। 

তিনি জানান, বিএনপির আপত্তির কারণে বিশেষ কমিটির বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা গণভোট অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকের মুলতবি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। 

জামায়াতের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, গণভোট বিল রহিত করার যে প্রস্তাব সরকার এনেছে, আমরা তার তীব্র বিরোধিতা করেছি। গণভোট অস্বীকার করলে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাই আর থাকে না। আগামী রোববার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে প্রায় ১১৫টি সংসদে উত্থাপনের বিষয়ে একমত হয়েছে সরকারি দল ও বিরোধী দল। গণভোট, দুদক কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ ও মানবাধিকার অধ্যাদেশসহ ১৮টি অধ্যাদেশের বিষয়ে এখনও একমত হওয়া যায়নি। জামায়াতের দাবি, সার্চ কমিটি বাতিল করে দুদক ও পুলিশ প্রশাসনে সরকারের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ‘জুলাই বিপ্লবের’ চেতনার পরিপন্থী।

দুর্নীতি দমন কমিশনের সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত নেতা বলেন, দুদক চেয়ারম্যান নিয়োগে এতদিন একটি সিস্টেম বা সার্চ কমিটি ছিল। কিন্তু এখনকার প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে সেই সার্চ কমিটি বাদ দিয়ে সরকার যাকে ইচ্ছা তাকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা নিতে চাচ্ছে। একইভাবে পুলিশ কমিশনার এবং আইজিপি নিয়োগেও পেশাদারিত্বের চেয়ে সরকারের পছন্দকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমরা বলেছি, এটি জুলাই চেতনার পরিপন্থী এবং আমরা এতে একমত হইনি। 

সংসদে সরকারি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, টু-থার্ড মেজরিটির দোহাই দিয়ে অতীতের সরকার অনেক কিছু করেছে। কিন্তু অহংকার কোনো জাতির জন্য ভালো কিছু বয়ে আনে না। জনগণের স্বার্থ পরিপন্থী কোনো বিষয়ে আমরা একমত হবো না। যে সংস্কার ও বিচারের ম্যান্ডেট নিয়ে এই সরকার এসেছিল গুম কমিশন বা মানবাধিকার কমিশনের মতো সেই অর্জনগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করা জনগণ মেনে নেবে না। তিনি বলেন, কোনো আইন বেআইনি কি না, তা আদালত নির্ধারণ করবেন। কিন্তু সচল কোনো আইন বা অধ্যাদেশকে একতরফা বাতিল করার প্রস্তাব আমরা গ্রহণ করিনি।

অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির বৈঠকে অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে সংসদের বৈঠকে উত্থাপনের প্রস্তাব এসেছে। এ ক্ষেত্রে জুলাই জনআকাক্সক্ষা ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় নিয়ে অধ্যাদেশগুলোতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে বিল প্রণয়ন করা হবে। তবে ‘জুলাই সুরক্ষা’ সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশ হুবহু রাখার বিষয়ে বিশেষ কমিটির সব সদস্য একমত পোষণ করেছেন। আগামী ২৯ মার্চ কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশেষ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিনের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মো. মুজিবুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম খান ও জি এম নজরুল ইসলাম।

কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে এ পর্যন্ত ১২টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় বিভিন্ন মত এলেও বেশিরভাগ অধ্যাদেশ সুপারিশ আকারে সংসদে উত্থাপনের বিষয়ে কমিটি একমত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে কেউ কেউ কিছু অধ্যাদেশ হুবহু রাখার পক্ষে, কেউ কেউ কিছু ক্ষেত্রে কিছু সংশোধন-পরিবর্তন আনার পক্ষে মত দিয়েছেন। বিশেষ করে ‘জুলাই সুরক্ষা’ সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশ হুবহু রাখার বিষয়ে বিশেষ কমিটির সব সদস্য একমত পোষণ করেছেন। 

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৩-৩৫ করা যায় কি না, বিরোধী দল থেকে এমন প্রস্তাব দেওয়া হলেও কমিটির বেশিরভাগ সদস্য ৩২ বছর করার বিষয়ে মত দিয়েছেন। আলোচনা শেষে অধ্যাদেশগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও যথার্থতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট আকারে তা জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পেশ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সংবিধান ও জুলাই সনদকে গুরুত্ব দিয়েছি। আমরা জুলাই সুরক্ষা নিয়ে সবাই একমত হয়েছি। ‘জুলাই সুরক্ষা’ সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশ নিয়ে কমিটির সব সদস্য একমত পোষণ করেছেন। এগুলো হুবহু সংসদে উপস্থাপন করা হবে। 

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কমিটির বৈঠকে ১৩৩টি অধ্যাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। প্রথমত কিছু অধ্যাদেশ বর্তমান রূপেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিল আকারে এনে পাস করবে। দ্বিতীয়ত প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ বিল উত্থাপন করা হবে। আর তৃতীয়ত যেসব বিষয়ে একমত হওয়া যাবে না, সেগুলো এই অধিবেশনে ‘ল্যাপস’ বা বাতিল হয়ে যাবে; যা প্রয়োজনে পরবর্তী অধিবেশনে নতুন বিল হিসেবে আসবে।

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা জুলাই জাতীয় সনদকে এখানে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছি। সাংবিধানিকতা রক্ষা এবং জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী প্রতিটি বিল অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। অধিকাংশ অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা শেষ হলেও দুদক আইন এবং মানবাধিকার কমিশন আইনসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। 
আগামী রোববারের বৈঠকে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে জুলাই বিপ্লব সংশ্লিষ্ট চারটি অধ্যাদেশের বিষয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির সব সদস্য ঐকমত্য পোষণ করেছেন বলে জানান আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। 

তিনি বলেন, আমরা এরই মধ্যে ১২০টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছি। পর্যালোচনার ক্ষেত্রে জুলাই সনদ এবং দেশের সংবিধানকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশের বিষয়ে কমিটির সবাই একমত হয়েছেন। অবশিষ্ট অধ্যাদেশগুলো নিয়ে আগামী ২৯ মার্চ পুনরায় আলোচনা করা হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশই বিল আকারে সংসদে উত্থাপনের প্রস্তাব এসেছে বলে জানান বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন। 

তিনি বলেন, সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী নতুন বিল পাসের আগে পুরোনো অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে, যাতে আইনি জটিলতা তৈরি না হয়।

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য মতে, ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী। পরে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিনের নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ১৫ মার্চ সংসদ অধিবেশনে সংসদে উত্থাপিত অধ্যাদেশগুলো বিশেষ কমিটিতে পাঠিয়ে ২ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কোনো অধ্যাদেশ জারি করলে এরপর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম বৈঠকে ওই অধ্যাদেশ তুলতে হয়। সংসদ গ্রহণ না করলে অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারায়।

সময়ের আলো/আআ



  বিষয়:   গণভোট  বাতিল  প্রস্তাব  আপত্তি  জামায়াত 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: