চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে ইরান। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে নিজেদের অবস্থান ও পাল্টা একগুচ্ছ শর্ত পাঠিয়েছে তেহরান।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত নিরসনে ইরান বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এর মধ্যে ‘গুপ্তহত্যা ও আগ্রাসন’ বন্ধ এবং যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সেই বিষয়ে তেহরান নিশ্চয়তা চেয়েছে।
এ ছাড়া যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য সুনির্দিষ্ট ও নিশ্চিত ক্ষতিপূরণ দাবি জানিয়েছে ইরান। পাশাপাশি এই সংঘাতের সঙ্গে জড়িত ওই অঞ্চলের ইরানইপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোসহ সব ফ্রন্টে একযোগে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাবের পর বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে ইরান আনুষ্ঠানিক জবাব পাঠায়। জবাবে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বকে একটি ‘স্বাভাবিক ও আইনগত অধিকার’ হিসেবে স্বীকৃতি এবং তা স্বীকার করে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে তেহরান।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন আগে জেনেভায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরান যেসব দাবি জানিয়েছিল, বর্তমান সব শর্তের সঙ্গে সেগুলোও যুক্ত হবে।
এদিকে, ইরান মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার আহ্বান এক ধরনের ‘প্রতারণা’, যার পেছনে একাধিক লক্ষ্য রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে শান্তিকামী হিসেবে তুলে ধরা, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কম রাখা এবং দক্ষিণ ইরানে স্থল অভিযানের জন্য সময়ক্ষেপণ করে সামরিক প্রস্তুতি নেওয়া।
তবে তেহরান তাদের জবাব পাঠানোর পর এখন ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনার উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এফআর