ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা আরও ১০ দিন পেছালেন ট্রাম্প

সময়ের আলো ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার পরিকল্পনা আবারও স্থগিত করেছেন। নতুন করে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, এই হামলার সম্ভাব্য সময়সীমা

2026-03-27T08:10:48+00:00
2026-03-27T08:10:48+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা আরও ১০ দিন পেছালেন ট্রাম্প
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ৮:১০ এএম 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার পরিকল্পনা আবারও স্থগিত করেছেন। নতুন করে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, এই হামলার সম্ভাব্য সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।

তেহরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ইরানের অনুরোধে তিনি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংসের সময়সীমা ১০ দিনের জন্য পিছিয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ‘আলোচনা খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে,’ যদিও এ ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে ইরান।

এই ঘোষণাটি এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। বিশ্বে তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রণালী খুলে না দিলে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা চালাবেন। পরে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’র কথা বলে তিনি প্রথমে ৫ দিনের জন্য সময় বাড়ান, আর এবার সেটি দ্বিতীয়বারের মতো আরও বাড়ানো হলো।

তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসামরিক অবকাঠামো বিশেষ করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র—লক্ষ্য করে হামলা চালানো জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যদি তা সরাসরি সামরিক প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে যুক্ত না থাকে।

বর্তমান সংঘাতটি শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালায়। এরপর থেকে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ক্রমেই বেড়েছে।

এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধ শেষ করতে ‘চুক্তির জন্য মিনতি করছে,’ যদিও তেহরান তা অস্বীকার করেছে এবং পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে—তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে পুরো অঞ্চলে আক্রমণ বাড়ানো হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে আলোচনা চলার দাবি, অন্যদিকে সামরিক হুমকি—এই দ্বৈত অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। এমনকি মার্কিন গণমাধ্যমে ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের কথাও উঠে এসেছে, যা বাস্তবায়িত হলে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে।

বর্তমান সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিতিশীলতা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালী কেন্দ্রিক এই সংকট বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

/এমএইচআর 


  বিষয়:   ইরান  যুদ্ধ  যুক্তরাষ্ট্র  ট্রাম্প 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: