ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতে মাত্র চার সপ্তাহেই ৮৫০টির বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই হারে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক মজুদ দ্রুত কমে যেতে পারে।
পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ আলোচনার বরাতে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ এখন ‘আশঙ্কাজনকভাবে কম’। সামরিক পরিভাষায় এ অবস্থাকে ‘উইনচেস্টার’ বলা হয়, যার অর্থ গোলাবারুদ প্রায় শেষ হয়ে যাওয়া।
টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র মূলত নৌবাহিনীর রণতরী ও সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপ করা হয় এবং এটি হাজার মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। একটি আধুনিক টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ ডলার এবং একটি তৈরি করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগে। বছরে মাত্র কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদিত হয়।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ছিল। গত চার সপ্তাহে এর প্রায় এক-চতুর্থাংশ ব্যবহৃত হয়েছে। এতে করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য সংঘাত, বিশেষ করে চীনকে ঘিরে পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই ঘাটতির বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিভিট বলেন, অপারেশন এপিক ফিউরির লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমাদের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদ রয়েছে।
অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, সন্ত্রাসীদের মোকাবিলায় অর্থের প্রয়োজন।
তিনি যুদ্ধ ব্যয় মেটাতে এবং অস্ত্রের মজুদ পুনরায় পূরণ করতে কংগ্রেসের কাছে ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি জরুরি তহবিল চেয়েছেন।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল গণমাধ্যমে প্রকাশিত ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের খবর উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীকে ‘দুর্বল’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে অভ্যন্তরীণভাবে প্রতিরক্ষা বিভাগ ইতোমধ্যে বড় অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছে এবং উৎপাদন অন্তত চার গুণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।