মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় কোনো কর্মসূচি পালন করেননি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। প্রশাসনের আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও দলটির নেতাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় আয়োজন পালন না করায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে জন্ম দিয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করেন। তবে ফটিকছড়ি উপজেলায় জামায়াতের কোনো ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, ফটিকছড়ি জামায়াতে ইসলামীর দুই আমিরকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তারা কেউ অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।
চাইলে ভূজপুর থানা জামায়াতের আমির মো. জাহাঙ্গীর আলম আমন্ত্রণপত্র পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
তবে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা ইউছুপ বিন সিরাজ দাবি করে বলেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে আমাকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান পালন করা সম্ভব হয়নি। পরে ভেবে দেখব।
উপজেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষক শওকত উল্লাহ বলেন, এমনিতেই জাতীয় দিবস নিয়ে জামায়াতের সেন্ট্রালি অ্যালার্জি রয়েছে। তা ছাড়া সরকারের বিপরীতে বিরোধী দল হওয়ায় তারা একটু ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্তে নিতে চায়। তবে নৈতিকভাবে এটি রাজনৈতিক চর্চার অংশ। আশাকরি, ভবিষ্যতে তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, স্বাধীনতা দিবসে অন্য সব রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন উৎসবমুখর পরিবেশে কর্মসূচি পালন করলেও জামায়াতের নীরবতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তারা মনে করেন, অন্তত ৫৪ বছরের ঐতিহাসিক বিতর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে রাষ্ট্রীয় এই জাতীয় দিবসগুলোতে তাদের অংশগ্রহণ জরুরি ছিল।
এফআর