কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে পৈত্রিক সম্পত্তি ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধ পিতাকে মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠে। তবে এ ঘটনার তদন্তে গিয়ে এক চাঞ্চল্যকর দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। অভিযুক্ত পুত্রবধূর ঘরে এক অপরিচিত ব্যক্তিকে দেখে সাংবাদিকরা পরিচয় জানতে চাইলে, তিনি ওই ব্যক্তিকে তড়িঘড়ি করে নিজের ‘দেবর’ বলে পরিচয় দেন।
উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের বাঙ্গড্ডা গ্রামের বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ হেদায়েত উল্লাহ তার ছেলে আব্দুল মান্নান, প্রবাসী আবু তাহের এবং পুত্রবধূ ইয়াসমিন আক্তার প্রিয়ার বিরুদ্ধে নাঙ্গলকোট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভুক্তভোগীর দাবি, ছেলেরা প্রবাসে থাকলেও তাকে এবং তার অসুস্থ স্ত্রীকে কোনো ভরণপোষণ দেন না। উল্টো পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের জন্য তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করছেন।
বৃদ্ধ পিতা হেদায়েত উল্লাহর অভিযোগ, তার ছেলেরা দেশে না থাকলেও পুত্রবধূ ইয়াসমিন আক্তার প্রিয়ার বাসায় সবসময় অপরিচিত লোকজনের যাতায়াত থাকে। সরেজমিনে সাংবাদিকরা অভিযুক্ত পুত্রবধূর বক্তব্য নিতে গেলে তার ঘরে একজন অপরিচিত পুরুষকে দেখা যায়। সাংবাদিকরা ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে প্রিয়া অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন এবং তাকে নিজের ‘দেবর’ বলে দাবি করেন। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
হেদায়েত উল্লাহ বলেন, আমি অসুস্থ মানুষ। আমার ছেলে-মেয়ে সবাই সম্পত্তির অংশীদার। কিন্তু ছেলেরা আমার কথা না শুনে আমাকে ও আমার মেয়েদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আব্দুল মান্নান পরিবারের আরেক সদস্যের ১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিচার চেয়ে ব্যর্থ হয়ে আইনের শরণাপন্ন হয়েছি।
অভিযুক্ত ইয়াসমিন আক্তার প্রিয়া তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এদিকে নাঙ্গলকোট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহজালাল বলেন, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
/এমএইচআর