যেভাবে শুরু হলো এপ্রিল ফুলস ডে

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

প্রতি বছর ১ এপ্রিল, বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ নিরীহ দুষ্টুমি ও মজার কৌতুকে মেতে ওঠে। কিন্তু এই দিনটির সূচনায় নানা

2026-04-01T05:22:09+00:00
2026-04-01T05:22:09+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
ফিচার
যেভাবে শুরু হলো এপ্রিল ফুলস ডে
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২২ এএম 
সংগৃহীত ছবি
প্রতি বছর ১ এপ্রিল, বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ নিরীহ দুষ্টুমি ও মজার কৌতুকে মেতে ওঠে। কিন্তু এই দিনটির সূচনায় নানা ধরনের কথা চালু রয়েছে। যদিও এপ্রিল ফুলস ডে ইংরেজিভাষী বিশ্বে ব্যাপকভাবে উদযাপিত হয়, ইতিহাসবিদরা এখনও এর নির্দিষ্ট উৎপত্তিকাল বা স্থান নির্ধারণ করতে পারেননি। 

ধারণা করা হয়, অন্তত ১৫০০ শতাব্দী থেকে কোনো না কোনো রূপে এই দিনটি প্রচলিত রয়েছে। তবে এর উৎপত্তি নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। কেউ বলেন মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ড, কেউ বলেন অপেক্ষাকৃত আধুনিক ফ্রান্স, আবার কেউ কেউ এর শিকড় খুঁজে পান প্রাচীন রোমসহ আরও পুরোনো বসন্ত উৎসবগুলোতে। ফলে নানা তত্ত্ব থাকা সত্ত্বেও এই দিবসটি এখনও এক আনন্দময় রহস্য হিসেবেই রয়ে গেছে।

কেন ১ এপ্রিল? তিনটি প্রধান তত্ত্ব : 

উৎপত্তি অস্পষ্ট হলেও কিছু ঐতিহাসিক সূত্র থেকে ধারণা করা হয়, এই প্রথার বয়স ৬০০ বছরেরও বেশি হতে পারে। লোকসংস্কৃতি গবেষক স্টিফেন উইনিক তিনটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব তুলে ধরেছেন একটি ইংল্যান্ড থেকে এবং দুটি ফ্রান্স থেকে।

প্রথম তত্ত্ব অনুযায়ী, এপ্রিলের প্রথম দিনে দুষ্টুমি করার রীতি মধ্যযুগ থেকেই প্রচলিত। ইংরেজ কবি জিওফরি চৌওচারের একটি বিখ্যাত রচনায় (প্রায় ১৩৯০ সালে প্রকাশিত)-এ একটি মোরগ ও শিয়ালের গল্প বলা হয়েছে, যেখানে তারা একে অপরকে বোকা বানানোর চেষ্টা করে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, ঘটনাটি মার্চের শুরু থেকে ৩২ দিন পরে ঘটেছে, যা ১ এপ্রিলের সঙ্গে মিলে যায়। 

তবে কিছু গবেষক মনে করেন, এটি হয়তো কোনো লিখনগত ভুল, যা এই তত্ত্বকে দুর্বল করে।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় তত্ত্ব এসেছে ফ্রান্স থেকে। সেখানে বহু শতাব্দী ধরে ‘এপ্রিল ফিশ’ দিবস পালিত হয়। এই দিনে মানুষ চুপিসারে অন্যের পিঠে কাগজের মাছ লাগিয়ে দেয় এবং ধরা পড়লে ‘এপ্রিল ফিশ!’ বলে হাসাহাসি করে। ১৫০৮ সালে ফরাসি কবি ও সুরকার ইলয় ডামারভেল তার লেখায় ‘এপ্রিল ফিশ’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন, যা এই প্রথার প্রাচীনত্বের ইঙ্গিত দেয়।

তৃতীয় তত্ত্বটি ক্যালেন্ডার পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। ১৫৬৪ সালে ফরাসি রাজা চার্লস নাইন তার রাজ্যে নতুন বছর ১ জানুয়ারি থেকে শুরু করার নির্দেশ দেন। এর আগে অনেক জায়গায় এপ্রিল মাসে নতুন বছর শুরু হতো। ফলে অনেকে বিভ্রান্ত হয়ে এপ্রিলেই নতুন বছর উদযাপন করতে থাকেন এবং তাদের ‘বোকা’ বলে ঠাট্টা করা হতো। ধীরে ধীরে এরপর 
এই ঠাট্টাই এক উৎসবে পরিণত হয় এবং ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

আরও প্রাচীন বসন্ত উৎসবের প্রভাব : যদিও উপরোক্ত তত্ত্বগুলো বিতর্কিত, তবু একটি বিষয় স্পষ্ট বসন্তকাল দীর্ঘদিন ধরেই আনন্দ, দুষ্টুমি ও উদযাপনের সময় হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে।

প্রাচীন রোমে ‘হিলারিয়া’ নামে একটি উৎসব পালিত হতো, যা বসন্তের সূচনা উপলক্ষে আয়োজন করা হতো। এটি উর্বরতার দেবী চেভেলের সম্মানে অনুষ্ঠিত হতো। ইতিহাসবিদ হিরোডিয়ার উল্লেখ করেছেন, এই উৎসবে মানুষ বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করত এবং সামাজিক অবস্থান ভুলে গিয়ে আনন্দে মেতে উঠত।

এ ছাড়া বসন্তকালে আরও কিছু ‘মজার’ উৎসব রয়েছে, যেমন হোলি, যেখানে রং খেলা ও হালকা দুষ্টুমি করা হয় এবং চিজদা বেদার, যা নওরোজ উৎসবের অংশ হিসেবে পালিত হয় এবং এতে নিরীহ মিথ্যা ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়।

রহস্য কি কখনো উন্মোচিত হবে?

এপ্রিল ফুলস ডে-এর প্রকৃত উৎপত্তি হয়তো কখনোই পুরোপুরি জানা যাবে না। লোকসংস্কৃতি গবেষক এলান ডানডেস ১৯৮৮ সালে বলেছিলেন, দীর্ঘ গবেষণার পরও এই প্রথা সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান খুব বেশি বাড়েনি।

তবে একটি বিষয় নিশ্চিত শীতের একঘেয়েমি কাটিয়ে বসন্তের আনন্দে মানুষ বরাবরই হালকা মজা ও হাস্যরসে মেতে উঠতে চায়।


  বিষয়:   এপ্রিল  দুষ্টুমি  মজা  ইতিহাস 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: