চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি)-এ ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে একদল বহিরাগত প্রবেশ করে মব সৃষ্টি, প্রামাণ্যচিত্রের বাজেট থেকে চাঁদা দাবি এবং এক সিনিয়র চিত্রগ্রাহককে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার বিকেলে ডিএফপি কার্যালয়ে মহাপরিচালকের উপস্থিতিতেই এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। আহত চিত্রগ্রাহক মো. মশিউর রহমান বর্তমানে একটি সরকারি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হামলায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান মশিউর রহমানের ভাই আতিকুর রহমান।
প্রামাণ্যচিত্রের বাজেট ঘিরে অভিযোগ
সূত্র জানায়, জুলাই অভ্যুত্থান বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে ডিএফপি-কে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে দুটি প্রামাণ্যচিত্রের জন্য ২২ লক্ষ টাকা (ভ্যাট-ট্যাক্স বাদে প্রায় ১৮ লক্ষ) বরাদ্দ ছিল মশিউর রহমানের নামে। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন তথ্য উপদেষ্টার মৌখিক নির্দেশে মুশফিকুর রহমান জোহান নামে এক বহিরাগত ব্যক্তির মাধ্যমে ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে কিছু ব্যক্তিকে কাজটি দেওয়া হয়।
অফিসিয়াল নথিতে মশিউর রহমানের নাম থাকলেও প্রথম দফার ১১ লক্ষ টাকা তাকে চাপ দিয়ে জোহানের লোকজনদের পরিশোধ করানো হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি প্রামাণ্যচিত্রটির মান বজায় রাখা হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।
ডিজির কক্ষে ‘মব’ ও হামলার ঘটনা
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ৩০ মার্চ বিকেলে অফিস শেষে মহাপরিচালক মশিউর রহমানকে নিজ কক্ষে ডাকেন। সেখানে জোহানসহ ২০-২২ জন কথিত সমন্বয়ক উপস্থিত ছিলেন। মশিউর রহমানকে চেক লিখে দিতে বলা হলে তিনি কাজের মান ও ভবিষ্যৎ অডিট আপত্তির আশঙ্কায় তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এতে উত্তেজিত হয়ে জোহান ও তার সহযোগীরা তাকে কলার ধরে টেনে-হিঁচড়ে অন্য কক্ষে নিয়ে যায় এবং এলোপাতাড়ি মারধর করে। হৃদরোগী মশিউর রহমান এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তার ভাই আতিকুর রহমান পুলিশ নিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
প্রশাসনিক প্রতিহিংসার অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ ঘটনার পেছনে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক বিরোধ থাকতে পারে। মশিউর রহমান ‘সহকারী চিত্র প্রযোজক’ পদের দায়িত্ব চাওয়ায় তাকে শোকজ করা হয় বলে অভিযোগ। এছাড়া দফতরের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার প্রমাণ তুলে ধরায় তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরাগভাজন হন বলেও দাবি করা হয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, অডিট নিষ্পত্তির নামে বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদকের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, যার প্রতিবাদ করায় মশিউর রহমান টার্গেটে পরিণত হন।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের বক্তব্য
৩১ মার্চ বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মশিউর রহমানের ভাই আতিকুর রহমান ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, হামলাকারী জোহান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার জন্য হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ ছাত্রদলকে দায়ী করছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর মহাপরিচালক মামলা না করার অনুরোধ করলেও গোপনে মশিউর রহমান ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মশিউর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আইনগত পদক্ষেপ ও দাবি
এ ঘটনায় পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারি দফতরে ঢুকে কর্মচারীর ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
/ইউএমএইচ