বলিউডের সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়টস’ (২০০৯)-এর আইকনিক চরিত্র ‘ফুংসুখ ওয়াংড়ু বা র্যাঞ্চো’ কি সত্যিই লাদাখের বিখ্যাত উদ্ভাবক ও শিক্ষা সংস্কারক সোনাম ওয়াংচুকের জীবন অবলম্বনে তৈরি? বিগত দেড় দশক ধরে দর্শকমনে গেঁথে থাকা এই বহুল প্রচলিত ধারণাটিকে এবার সরাসরি নাকচ করে দিলেন স্বয়ং আমির খান।
লন্ডন ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে একটি সিনেমার স্ক্রিনিং পরবর্তী প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে আমির খান স্পষ্টভাবে জানান, যখন এই সিনেমাটি লেখা বা শুটিং করা হচ্ছিল, তখন তিনি কিংবা সিনেমার লেখকদের কেউই সোনাম ওয়াংচুক সম্পর্কে জানতেন না।
আমির খান বলেন, একটা বড় ভুল ধারণা রয়েছে যে ‘থ্রি ইডিয়টস’ সোনাম ওয়াংচুকের জীবনীর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এটি মোটেও সত্যি নয়। যখন ছবিটির চিত্রনাট্য লেখা হচ্ছিল, তখন আমাদের কাছে সোনাম ওয়াংচুক সম্পর্কে কোনো তথ্য ছিল না এবং ব্যক্তিগতভাবেও আমি তাকে চিনতাম না।
সম্প্রতি ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমায় চতুর রামালিঙ্গম চরিত্রে অভিনয় করা ওমি বৈদ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে তিনি সোনাম ওয়াংচুকের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দাবি করেছিলেন, ‘ফুংসুখ ওয়াংড়ু’ চরিত্রটি ওয়াংচুকের জীবন থেকেই অনুপ্রাণিত। ওমির এই মন্তব্যের পর আমির খানের ওপরও বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলার সামাজিক চাপ তৈরি হয়।
ওমি বৈদ্যর সেই দাবির প্রসঙ্গে আমির খান হাসিমুখে বলেন, ‘ভিডিওতে চতুর (ওমি বৈদ্য) যা বলেছে, তা সম্পূর্ণ ভুল।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘সোনাম ওয়াংচুক যে কাজগুলো করছেন, তা সম্পূর্ণ তার নিজস্ব যোগ্যতায় এবং অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাকে সম্মান জানানোর জন্য আমাদের ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর কোনো চরিত্রের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই।’
চলচ্চিত্রের পেছনের আসল সত্যটি পরিষ্কার করার পাশাপাশি সোনাম ওয়াংচুকের চলমান আন্দোলনের প্রতি নিজের নৈতিক সমর্থন জানান আমির। বর্তমানে ভারতের বহুল আলোচিত‘নিট’ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আমরণ অনশন করছেন ৫৯ বছর বয়সী এই সমাজকর্মী।
অনশনের কারণে সোনাম ওয়াংচুকের রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে এবং তার ওজন ইতিমধ্যে ৮ থেকে ৯ কেজি হ্রাস পেয়েছে। তার এই শারীরিক অবস্থায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আমির খান বলেন, সোনাম ওয়াংচুক যে আন্দোলন করছেন তা একদম সঠিক। তবে এখন অনেকেই মনে করছেন তার অনশন ভাঙা উচিত, কারণ তার শরীর দ্রুত ভেঙে পড়ছে। আমির নিজেও ওয়াংচুককে নিজের জীবনের সুরক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানান।
সময়ের আলো/কহু