মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পরপরই ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের ভাষণ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই ইরান থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, তারা এসব ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে এবং তা প্রতিহত করতে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
ট্রাম্প তার ভাষণে দাবি করেন, চলমান সংঘাতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা-বিশেষ করে নৌ ও বিমান শক্তি- গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি তিনি বলেন, ইরানের কয়েকজন শীর্ষ নেতাও নিহত হয়েছেন এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের পাল্টা হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
আরও পড়ুন
ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা অসাধারণ কাজ করছে, এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে রয়েছে।’
এছাড়া তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দেশটিকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।
ভাষণে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদের একটি আলোচিত সামরিক অভিযানের কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে ইরানের শীর্ষ কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি নিহত হন। তিনি সোলাইমানিকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে আখ্যা দেন।
এ সময় ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের জন্য মার্কিন বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান এবং দাবি করেন, এতে বৈশ্বিক পর্যায়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য ও ইরানের তাৎক্ষণিক সামরিক প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা আরও জটিল হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এএডি/