পর্বতারোহীদের স্বীকৃতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এভারেস্টজয়ীর খোলা চিঠি

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

দেশের পর্বতারোহণ ও এক্সট্রিম স্পোর্টস খাতের উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে খোলা চিঠি দিয়েছেন এভারেস্টজয়ী বাংলাদেশি

2026-04-02T18:35:55+00:00
2026-04-02T18:37:15+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
ফিচার
পর্বতারোহীদের স্বীকৃতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এভারেস্টজয়ীর খোলা চিঠি
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম  আপডেট: ০২.০৪.২০২৬ ৬:৩৭ পিএম
এভারেস্টজয়ী বাংলাদেশি পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল। ছবি : সংগৃহীত
দেশের পর্বতারোহণ ও এক্সট্রিম স্পোর্টস খাতের উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে খোলা চিঠি দিয়েছেন এভারেস্টজয়ী বাংলাদেশি পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল। চিঠিতে তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে সরকারের সাম্প্রতিক ইতিবাচক উদ্যোগের প্রশংসা করলেও পর্বতারোহণকে উপেক্ষিত খাত হিসেবে তুলে ধরে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি চিঠিটি পোস্ট করেন।

চিঠির শুরুতে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে ইকরামুল হাসান শাকিল বলেন, সরকারের ক্রীড়াবিদদের জন্য সম্মাননা, স্পোর্টস কার্ড এবং মাসিক ভাতা চালুর উদ্যোগ তৃণমূলের খেলোয়াড়দের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। 

দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার ৩০ মার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার প্রথমবারের মতো ক্রীড়া ভাতা চালু করেছে। এর আওতায় প্রথম পর্যায়ে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে এক লাখ টাকা করে ভাতা ও স্পোর্টস কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য মাসিক ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে এই উদ্যোগে পর্বতারোহণ ও এন্ডুরেন্স স্পোর্টসকে অন্তর্ভুক্ত না করায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। 

তিনি উল্লেখ করেন, একজন বাংলাদেশি পর্বতারোহী হিসেবে তিনি ১৯ মে ঐতিহাসিক ‘সি টু সামিট এভারেস্ট অভিযান’ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। ইনানী সৈকত থেকে শুরু করে কোনো প্রকার যানবাহন ছাড়া ১ হাজার ৩৭২ কিলোমিটার পথ হেঁটে, তিন কিলোমিটার যমুনা নদী সাঁতরে পার হয়ে ৮৪ দিনে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেন, যা বিশ্ব এক্সট্রিম ও এন্ডুরেন্স ক্রীড়াঙ্গনে বিরল একটি দৃষ্টান্ত।

এছাড়াও তিনি হিমালয়ের দুর্গম ট্রেইল ‘দ্য গ্রেট হিমালয়ান ট্রেইল’ এর ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার পথ ১০৯ দিনে অতিক্রম করেছেন, যা পৃথিবীতে ৫০ জনেরও কম পর্বতারোহী সম্পন্ন করতে পেরেছেন। একই সঙ্গে পাঁচ, ছয় ও সাত হাজার মিটার উচ্চতার একাধিক পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন।

চিঠিতে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক পর্বতারোহী বিশ্বের দুর্গম শৃঙ্গে দেশের পতাকা তুলে ধরছেন এবং তরুণ প্রজন্মও এই খাতে আগ্রহী হয়ে উঠছে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও স্বীকৃতির অভাবে এই সম্ভাবনাময় খাত ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ছে।

পর্বতারোহণকে তিনি বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং খেলা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রতিটি পদক্ষেপে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও খেলোয়াড়রা দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনছেন। অথচ সরকারি সহায়তা তো দূরের কথা, অতীতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পর্বতারোহীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারতে ‘তেনজিং নরগে ন্যাশনাল অ্যাডভেঞ্চার অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয় এবং এভারেস্টজয়ীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাকিস্তানে ‘প্রাইড অব পারফরম্যান্স’ ও ‘হিলাল-ই-ইমতিয়াজ’, যুক্তরাজ্যে ‘নাইটহুড’ ও ‘অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার’, নিউজিল্যান্ডে ‘অর্ডার অব নিউজিল্যান্ড’ এবং নেপালে বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হয়। 

এসব উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশেও এ ধরনের স্বীকৃতি চালু করা প্রয়োজন।

চিঠিতে তিনি ‘বাংলাদেশ স্পোর্টস অ্যাডভেঞ্চার অ্যান্ড মাউন্টেনিয়ারিং কনফেডারেশন’ এর কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। 

তিনি দাবি করেন, এই সংস্থার কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই এবং এর দায়িত্বশীলতা ও কাজের পরিধি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সংস্থাটির কার্যক্রম, নেতৃত্ব এবং সরকারি অনুদান ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক পর্বতারোহী হতাশ হয়ে এই খাত থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। 

তিনি বলেন, পরিবার ও সমাজ থেকেও পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ায় তরুণরা স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরুৎসাহিত হচ্ছে।

পর্বতারোহণকে ব্যয়বহুল খেলা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে সীমিত সামর্থ্যে আন্তর্জাতিক সাফল্য অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন। এই অবস্থায় রাষ্ট্রীয় সহায়তা পেলে বাংলাদেশের তরুণরা বিশ্বমঞ্চে আরও বড় অর্জন এনে দিতে সক্ষম হবে।

চিঠির শেষে তিনি সরকারের কাছে পর্বতারোহণ ও এন্ডুরেন্স স্পোর্টসকে ক্রীড়া ভাতা, স্পোর্টস কার্ড এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনার আহ্বান জানান। পাশাপাশি এই খাতে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও নজরদারির মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে চিঠির সমাপ্তি টানেন।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   প্রধানমন্ত্রী  তারেক  রহমান  চিঠি  এভারেস্ট  পর্বতারোহী  ইকরামুল  শাকিল 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: