দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে বাংলাদেশ বনাম ভারত মানেই এক অন্যরকম উত্তেজনা, মাঠের লড়াই ছাড়িয়ে যা রূপ নেয় দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মর্যাদার লড়াইয়ে। সাফের আঙিনায় এই দুই দলের মুখোমুখি হওয়া মানেই এক পশলা রোমাঞ্চ আর স্নায়ুচাপের চূড়ান্ত পরীক্ষা সেই চিরচেনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ নিয়েই আজ মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের হাইভোল্টেজ ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে লাল-সবুজের বাংলাদেশ।
গ্রুপ পর্বের সমীকরণ আর সেমিফাইনালের বাধা টপকে শিরোপার সুবাস পেতে মরিয়া দুই দলই, যেখানে একদিকে থাকছে ভারতের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার লড়াই, আর অন্যদিকে বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ইতিহাস নতুন করে লেখার।
চলমান টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল এক কথায় ধারাবাহিক ও লড়াকু। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে কৌশলী ফুটবল খেলে। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে গ্রুপ রানার্সআপ হয়েই সেমিফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। শেষ চারের লড়াইয়েও নিজেদের জাত চিনিয়েছে বাংলাদেশের যুবারা। নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে মিঠুর দল।
পুরো টুর্নামেন্টে বিশেষ করে রক্ষণভাগের দৃঢ়তা আর মাঝমাঠের পাসিং ফুটবল প্রতিপক্ষকে বেশ চাপে রেখেছে রোনানরা। অন্যদিকে আক্রমণভাগে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য আর দলীয় সমন্বয়ে গোল আদায় করে নেওয়ার সক্ষমতা টুর্নামেন্টজুড়ে নজর কেড়েছে। ফাইনালের আগে দলের প্রধান কোচ ও খেলোয়াড়দের মাঝে সেই আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট, যেখানে লক্ষ্য কেবল একটি- ভারতকে হারিয়ে ট্রফি নিয়ে দেশে ফেরা।
বাংলাদেশের কোচ মার্ক কক্স জানিয়েছেন ভারতের বিপক্ষে শিরোপা জিততে চান যেকোনো মূল্যে। তবে টাইব্রেকারে যেতে চান না। কক্স বলেন, ‘আমরা ভারতের মতো একটি দুর্দান্ত দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি যারা খুব ভালো খেলেছে। তাদের কিছু দুর্দান্ত কোচ এবং কোচিং স্টাফ রয়েছে। তবে আমাদেরও কিছু দুর্দান্ত কোচিং স্টাফ এবং দুর্দান্ত খেলোয়াড় রয়েছে। ভারত একটি দারুণ দেশ, তবে বাংলাদেশও তাই।
আমরা এখানে ৯০ মিনিটের মধ্যে জিততে এসেছি। আমরা একটি খুব শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে একটি ভালো খেলা উপহার দিতে এসেছি এবং ভারতও জানে তারা একটি খুব শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছে এবং আমি মনে করি তারা জানে যে তারা লড়াইয়ের মধ্যেই থাকবে।’
ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে নামার আগে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রতিপক্ষের দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক ঠেকানো। ভারত বরাবরের মতোই শারীরিক ফুটবল আর সেট-পিসগুলোতে শক্তিশালী, যা বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বয়সভিত্তিক ফুটবলে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড বেশ আশাব্যঞ্জক, যা ফাইনালে নামার আগে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে মিরাজ-রাব্বিদের। মাঠের লড়াই শুরুর আগে দুই ক্যাম্পেই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ; একদিকে ভারত চাইবে তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে, আর বাংলাদেশ চাইবে গত আসরগুলোর অপূর্ণতা ঘুচিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট নিজেদের করে নিতে।
মালেতে আজ তাই কেবল ফুটবলের নয়, বরং শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দারুণ এক লড়াইয়ের অপেক্ষাই করছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল।
সময়ের আলো/কেএইচও