সংকটে স্বস্তি ক্যানেলের পানি

মাহফুজ মামুন, চুয়াডাঙ্গা

সারাদেশ

ফসল চাষের শুরুতে চুয়াডাঙ্গায় জিকে সেচ ক্যানেলে পানি থইথই করছে। কৃষকের চোখে-মুখে উচ্ছ্বাস। বিনা খরচে ক্যানেলের পানি দিয়ে কৃষক বোরো

2026-04-05T04:31:17+00:00
2026-04-05T04:31:17+00:00
 
  রবিবার, ৭ জুন ২০২৬,
২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
সারাদেশ
সংকটে স্বস্তি ক্যানেলের পানি
মাহফুজ মামুন, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশ: রোববার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩১ এএম   (ভিজিট : ২১)
সংগৃহীত ছবি
ফসল চাষের শুরুতে চুয়াডাঙ্গায় জিকে সেচ ক্যানেলে পানি থইথই করছে। কৃষকের চোখে-মুখে উচ্ছ্বাস। বিনা খরচে ক্যানেলের পানি দিয়ে কৃষক বোরো ধান, ভুট্টা ও সবজি আবাদ করতে পারছে এ মৌসুমে। ক্যানেলের পানি দিয়ে ফসল চাষ করতে বাড়তি খরচ গুনতে হয় না। পানি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয় না। 

ডিজেল সংকট থাকলেও জিকে ক্যানেলের আওতায় কৃষকদের চাষ নিয়ে বর্তমানে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। বিগত কয়েক বছর খরা মৌসুমে ক্যানেলে পানি না থাকায় কৃষকদের ডিজেল কিনে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি দিতে হতো। এখন বিনা খরচে ক্যানেলের পানি ব্যবহার করছেন তারা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্দিষ্ট সময়ে কৃষকরা পানি পেয়েছে।

বোরো ধান চাষে পানির ব্যবহার বেশি হয়। কারণ শুষ্ক মৌসুমে ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে পানিতে পোষায় না। এক দিন পরপর মাঠের ফসলের জমিতে সেচ দিতে হয়। যা নিয়ে কৃষকদের দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। বর্তমানে দেশে ডিজেল সংকট দেখা দিয়েছে। পানি না দিতে পারলে মাঠ শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে যায়। এ কারণে কৃষকরা জিকে ক্যানেলের পানি ব্যবহার করে তাদের জমিতে সেচকার্য চালিয়ে নিচ্ছে। এতে কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে না।

২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা জিকে সেচ প্রকল্প থেকে পানি ছাড়ে ক্যানেলে। দুটি পাম্পের মাধ্যমে পদ্মা নদী থেকে পানি দেওয়া হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গার সব জিকে ক্যানেলে পানি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে আছে। পানি পেয়ে কৃষকরা বেজায় খুশি। পানি আসার পর দিন থেকেই কৃষকরা তাদের বোরো ধানের জমিতে সেচ দিতে শুরু করে। পানি ফসলে দেওয়ার পর থেকে ফসল সতেজ ও সবুজ হতে শুরু করে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ও আলমডাঙ্গা উপজেলায় জিকে ক্যানেল রয়েছে। জিকে ক্যানেলের আওতায় প্রধান খাল রয়েছে ৪১ কিলোমিটার, টারশিয়ারি খাল ২৬৩ কিলোমিটার, সেকেন্ডারি খাল ৭৫ কিলোমিটার ও মাঠনালা রয়েছে ২০ কিলোমিটার। ফসলের সেচের জন্য জিকে ক্যানেলের পানি ব্যবহার করছে কৃষকরা। ক্যানেলে পানি থাকায় মাঠের শ্যালো মেশিনগুলো বন্ধ রয়েছে।

এ মৌসুমে চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গায় ৭ হাজার ৮০০ হেক্টর ফসলি জমি রয়েছে জিকে ক্যানেলের আওতায়। আলমডাঙ্গায় ৫০০ হেক্টর ও সদর উপজেলায় ৬৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের জমিতে ক্যানেলের পানি ব্যবহার হচ্ছে। এ ছাড়াও সবজি, কলা, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ হচ্ছে। ডিজেল ও শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দিতে কৃষকদের বাড়তি খরচ হতো, অন্যদিকে ফসল উৎপাদন হ্রাস পেত। শ্যালো মেশিনের পানি আয়রন ও আর্সেনিক যুক্ত। এ মৌসুমে দুটি উপজেলার প্রায় ৬ হাজার ৫০০ জন কৃষক জিকে ক্যানেলের আওতায় ফসলের জমিতে সেচকার্য পরিচালনা করছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কৃষক হাসমত আলি বলেন, বোরো মৌসুমে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি দিলে আমাদের পোষায় না। এবার ধান লাগানোর পর থেকেই ক্যানেলে পর্যাপ্ত পানি রয়েছে। সেই পানি ব্যবহার করছি। ক্যানেলের পানি ফসলে ব্যবহার করলে ভালো হয়। ফসলের রং গাঢ় সবুজ হয় ও দীর্ঘ সময় জমিতে পানি থাকে।

আলমডাঙ্গা উপজেলার কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, বিনা খরচে ধানসহ অন্য ফসলে পানি দিতে পারছি। আগে মেশিন ভাড়া, ডিজেল ও ধান দিতে হতো, যার ফলে অনেক বাড়তি খরচ হয়। ক্যানেলের পানি আয়রন ও আর্সেনিকমুক্ত হয়। বিঘাপ্রতি ফলন অনেক বেড়ে যায়। এভাবে আমরা নিয়মিত পানি পেলে সুবিধা হবে।

কৃষক নূর ইসলাম বলেন, এখনও পানি কানায় কানায় রয়েছে ক্যানেলে। যখন ইচ্ছা তখন পানি ব্যবহার করতে পারছি। ঝামেলামুক্ত থেকে এ বছর চাষ শেষ করতে পারব ভাবতেই পারিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, কৃষকরা পানি পেলে চাষে বেশি লাভবান হতে পারবে। নির্দিষ্ট সময়ে জিকে কর্তৃপক্ষ পানি ছাড়লে সমস্যার সমাধান হবে। ক্যানেলের আওতায় থাকা সব কৃষক তাদের ফসলে এ পানি ব্যবহার করতে পারবে। এখান থেকে প্রয়োজনমতো পানি ব্যবহার করতে পারছে কৃষক।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ জানান, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পাম্প হাউসের মাধ্যমে জিকে ক্যানেলে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এ মৌসুমে কোনো ধরনের সমস্য নেই। কৃষকদের পাশে থাকার চেষ্টা আমরা সর্বদা করে থাকি। সুন্দরভাবে ক্যানেল দিয়ে পানি আসছে। 

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   সংকট  স্বস্তি  ক্যানেল  পানি 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: