মার্কিন বাহিনীর গতিবিধি ইরানের কাছে বিক্রি করছে চীনা কোম্পানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানে যুদ্ধ শুরুর পাঁচ সপ্তাহের মাথায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়ে একাধিক ভাইরাল পোস্ট, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির

2026-04-05T18:38:24+00:00
2026-04-05T18:38:24+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
মার্কিন বাহিনীর গতিবিধি ইরানের কাছে বিক্রি করছে চীনা কোম্পানি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৮ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
ইরানে যুদ্ধ শুরুর পাঁচ সপ্তাহের মাথায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়ে একাধিক ভাইরাল পোস্ট, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির সরঞ্জাম, বিমানবাহী রণতরী বহরের চলাচল এবং তেহরানে হামলার প্রস্তুতিতে মার্কিন যুদ্ধবিমানের মোতায়েন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য উঠে আসে।

এসব তথ্যের উৎস হিসেবে উঠে এসেছে চীনের দ্রুত বিকাশমান একটি নতুন বাজার, যেখানে বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উন্মুক্ত তথ্য (ওপেন-সোর্স ডেটা) ব্যবহার করে গোয়েন্দা তথ্য তৈরি ও বিক্রি করছে। 

তাদের দাবি, এসব তথ্যের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনীর গতিবিধি ‘উন্মোচন’ করা সম্ভব।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু সরাসরি বা পরোক্ষভাবে চীনের সামরিক বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মির সঙ্গে যুক্ত।

যদিও বেইজিং ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে, তবে গত পাঁচ বছরে সরকারের ‘সিভিল-মিলিটারি ইন্টিগ্রেশন’ কৌশলের আওতায় গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করছে।

এ বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এসব প্রযুক্তি বাস্তব হুমকি হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে কেউ বলছেন, এগুলোর কার্যকারিতা অতিরঞ্জিত। তবে সবাই একমত যে, বেসরকারি খাতের এই প্রবণতা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ওয়াশিংটনের আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক রায়ান ফেডাসিউক বলেন, চীনে ক্রমবর্ধমান বেসরকারি ভূ-স্থানিক বিশ্লেষণ কোম্পানিগুলো দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে এবং সংকটের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা জোরদার করবে।

২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হাংঝৌভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মিজারভিশন পশ্চিমা ও চীনা ডেটা একত্র করে এআইয়ের মাধ্যমে বিশ্লেষণ চালায়। প্রতিষ্ঠানটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটির কার্যক্রম, নৌবাহিনীর চলাচল এবং নির্দিষ্ট বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অবস্থান শনাক্ত করার দাবি করেছে।

তাদের প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর বড় ধরনের সমাবেশ যেমন দুটি বড় মার্কিন রণতরী বহরের অগ্রযাত্রা শনাক্ত করা হয়েছিল।

এছাড়া তারা ইসরাইলের অভদা এয়ার বেস, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস এবং কাতারের আল উইদেদ এয়ার বেসে মার্কিন যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ও ধরন সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও দাবি করে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা অস্ত্র ও সরঞ্জামের অবস্থান দ্রুত শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে এবং মার্কিন রণতরীর জ্বালানি সরবরাহের ধরন পর্যন্ত বিশ্লেষণ করেছে।


অন্যদিকে, একই ধরনের আরেকটি চীনা প্রতিষ্ঠান জিং’আন টেকনোলজি দাবি করেছে, তারা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর সময় দুইটি মার্কিন বি-২এ স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমানের মধ্যে যোগাযোগ রেকর্ড করেছে। যদিও পরবর্তীতে তারা সেই রেকর্ড মুছে ফেলে।

তবে মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের অনেকেই এসব দাবির বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। 

তাদের মতে, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের স্টেলথ যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রবেশ করা সম্ভব নয়।

সিআইএ এর সাবেক কর্মকর্তা ডেনিস ওয়াইল্ডার বলেন, চীনের গোয়েন্দা ব্যবস্থার ওপর চাপ রয়েছে। তাই এসব কোম্পানি নিজেদের সক্ষমতা অতিরঞ্জিত করে দেখাতে পারে।

তবে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। 

তাদের আশঙ্কা, চীনের প্রযুক্তি খাত বাণিজ্যিক প্রযুক্তিকে সামরিক নজরদারির অস্ত্রে রূপান্তর করছে, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চীনের জন্য একটি কৌশলগত সুবিধা তৈরি করছে যেখানে সরকার সরাসরি জড়িত না থেকেও এসব তথ্য ব্যবহার করতে পারে এবং প্রয়োজনে দায় এড়াতে পারে।

প্রসঙ্গত, ইরানের সাথে চীনের দীর্ঘদিনের মিত্রতা এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী হলেও বেইজিং এখনো সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি। বরং সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে তারা দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষরা ইরানকে কিছু গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করছে।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   ইরান  যুদ্ধ  মধ্যপ্রাচ্য  যুক্তরাষ্ট্র  ঘাঁটি  বিমানবাহী  রণতরী  বহর 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: