দেশের সব দোকানপাট ও শপিংমল সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার। ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার বড় বড় শপিংমল বন্ধ হয়ে গেলেও বিভিন্ন সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড়, পাড়া-মহল্লার বেশিরভাগ দোকানপাট খোলা থাকছে। অনেক নামিদামি ব্র্যান্ডের শোরুমও খোলা দেখা গেছে নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পরও। অনেকেই এ ক্ষেত্রে গড়িমসি করছেন।
জানা যায়, রোববার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে সন্ধ্যা ৬টায় দেশের সব দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল সরকার।
তবে রোববার সন্ধ্যা ৭টার পরে রাজধানীর মৌচাক, মালিবাগ ও খিলগাঁও এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সন্ধ্যা ৭টার কিছুক্ষণ পরেই মৌচাক এলাকার মৌচাক ও আনারকলি মার্কেট, ফরচুন শপিংমল ও সেন্টার পয়েন্ট শপিং কমপ্লেক্স বন্ধ হয়ে যায়। তবে এসব মার্কেটের মূল কমপ্লেক্সের বাইরে কিছু দোকান ও বিপণিবিতান তখনও খোলা ছিল। একই অবস্থা খিলগাঁও তালতলা সুপার মার্কেট ও আশপাশের এলাকায়। তালতলা মার্কেট সন্ধ্যা ৭টার পরপর বন্ধ হলেও ওই এলাকায় রাত ৮টা পর্যন্ত অনেক দোকান ও শোরুম খোলা দেখা গেছে।
রাত ৮টায় লাবণ্য ক্রিয়েশনের শোরুম খোলা রাখার কারণ জানতে চাইলে সেখানকার এক কর্মচারীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এখনই বন্ধ করব। হিসাব-নিকাশ করছিলাম, এ জন্য অনেক লাইট কমিয়ে রেখেছি।’ এদিকে এদিন খিলগাঁওসহ অনেক এলাকায় ৭টার পরে দোকান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে মাইকিংও করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও এ নির্দেশনা মানতে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তা মানতে অনেক ব্যবসায়ীর অনীহা দেখা গেছে। তবে নিয়ম না মানলে পদক্ষেপ নেওয়া ও তদারকির কথা জানিয়েছেন দোকান মালিক সমিতির সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে শনিবার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ রাখার কথা থাকলেও বড় বড় শপিংমলগুলো ছাড়া আর কারোই তোয়াক্কা ছিল না নিয়মের। রাত ৮-৯টা পর্যন্ত স্বাভাবিক বেচাকেনা চলছে সেসব দোকানপাটে। কোথাও কোথাও দোকান মালিক সমিতির স্পষ্ট নির্দেশনা নেই বলেও অভিযোগ করেছিলেন কর্মচারীরা। একই সঙ্গে বন্ধের কঠোরতা নিয়ে কোনো প্রকার সচেতনতা ছিল না সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও।
ওইদিন রাজধানীর সবচেয়ে বড় শপিংমল বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স ও যমুনা ফিউচার পার্ক নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে এসব বড় শপিংমলের ঠিক অন্য পাশেই খোলা থাকতে দেখা যায় সব ধরনের দোকান। সেখানে যেন নিয়ম মানার কোনো তাড়া নেই কারও মাঝেই। একই চিত্র দেখা গেছে হাতিরপুল এলাকায়। সেখানে অবস্থিত বড় দুটি মার্কেট ইস্টার্ন প্লাজা ও মোতালেব প্লাজা নির্দিষ্ট সময় ৬টায় বন্ধ করে দিতে দেখা যায়। তবে এসব মলের আশপাশের সব দোকানপাটই স্বাভাবিকভাবে চলছিল। নতুন সিদ্ধান্তের দিন রোববারও হাতিরপুল এলাকায় অনেক দোকানপাট খোলা থাকতে দেখা গেছে। এ ছাড়া কেউ কেউ লাইট কমিয়ে ও দোকানের একটি শাটার খুলে কার্যক্রম চালাতে দেখা যায়।
সময়ের আলো/আআ