গত কয়েক দিন ধরে দেশজুড়েই বৃষ্টি ঝরছে। আবার চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যাও দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকাতেও টানা বৃষ্টির প্রভাব রয়েছে। এভাবে টানা ভারী বর্ষণ ও বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যাওয়ায় ঢাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অনেকটা স্থবির। এর প্রভাব পড়েছে বাজারেও।
টানা বৃষ্টির কারণে একদিকে বাজারে ক্রেতা উপস্থিতি কম, অন্যদিকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেশ কিছু সবজি ও মাছের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে কাঁচামরিচের দাম এক লাফে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা করে বেড়েছে। এ ছাড়া ডিমের দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। তবে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে মুরগি। সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা যায়।
বিক্রেতারা বলছেন, দেশজুড়ে টানা বৃষ্টির ফলে ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। ঢাকার সঙ্গে যাতায়াত ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় ঢাকায় সবজি সরবরাহ কমেছে। ফলে বাজারে সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। ক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির অজুহাতে সরবরাহ কমার কথা বলা হলেও বাজারে কোনো সবজির ঘাটতি নেই, তবু বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, কেজি দরে করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুমুখি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন প্রকারভেদে ৮০ থেকে ১২০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, হাইব্রিড ধুন্দল ৬০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
টমেটো প্রকারভেদে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, প্রতি পিস ফুলকপি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা এবং লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এর বাইরে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৪০-৫০ থেকে বেড়ে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পেঁপে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা, আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়। দেশি ধনে পাতা ২৫০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ১৮০ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, কাঁচকলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে। আঁটি প্রতি লাল শাক ১৫ থেকে ২০ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং দুই আঁটি ডাটা শাক ও কলমি শাক ৩০ ও ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের মতোই সোনালি কক মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ টাকা কেজি দরে।
স্বস্তি নেই মাছের বাজারেও। বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। বাজারে সরবরাহ ঘাটতি থাকায় প্রতি কেজিতে মাছের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বড় তেলাপিয়া ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, ছোট তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা, রুই সাইজ ভেদে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙাশ ২০০ টাকা, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া অন্যান্য মাছের মধ্যে টেংরা ও শিং ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, চিংড়ি আকারভেদে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ কেজি দরে ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ কেজি দরে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে অল্পসংখ্যক ক্রেতা এসেছেন বাজারে। এক ক্রেতা বলেন, বাসায় মাছ-মুরগি নেই। তাই বৃষ্টির মধ্যে বাজারে এসেছি। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি কিনেছি ১৭০ টাকা কেজিতে কিন্তু আজ ১৯০ টাকা কেজি দরে নিতে হয়েছে। মাছের দামও কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা করে বেড়েছে।
মাছ বিক্রেতারা বলেন, বৃষ্টির কারণে মাছের সরবরাহ কম। এ কারণে দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি কেজি মাছ প্রকারভেদে ৩০ থেকে ৫০ টাকা করে বেশি দামে বিক্রি করছেন।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি