যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর আন্তর্জাতিক তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে অনুমতি না দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, মঙ্গলবারের (৭ এপ্রিল) মধ্যে এই জলপথটি না খোলা হলে যুক্তরাষ্ট্র বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতুতে হামলা চালাতে পারে।
এর প্রভাবেই সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১১৫ ডলার এবং ইউএস ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম প্রায় ১১২ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। একই সঙ্গে লন্ডনের গ্যাস অয়েল ফিউচার্সের দামও ৫.৭ শতাংশ বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ইতিমধ্যেই ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে মার্চের শুরু থেকে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতির আশার বাতাস দেখা দিলেও, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি সেই আশা খারাপ করেছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সংঘাত আগামী ২-৩ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।
ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ভারী পানি উৎপাদন কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলার প্রভাবও তেলের বাজারে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষ করে তেহরান থেকে মধ্যপ্রাচ্যে তেল ও গ্যাস চালান বিঘ্নিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতির উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি উত্তেজনা অব্যাহত থাকে, তবে তেলের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হবে।
/ইউএমএইচ