এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের মূলপর্বে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার অন্তিম লড়াইয়ে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ। থাইল্যান্ডের নন্থাবুরিতে ‘এ’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে লাল-সবুজের প্রতিপক্ষ ভিয়েতনাম। টুর্নামেন্টের কঠিন সমীকরণ মেলাতে ম্যাচ জয়ের বিকল্প নেই আফঈদা-প্রীতিদের। গ্রুপপর্বের প্রথম দুই ম্যাচে থাইল্যান্ড ও শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে লড়াই করেও পয়েন্ট পায়নি বাংলাদেশ। টানা দুই হারেও আশা শেষ হয়ে যায়নি।
নিয়মানুযায়ী তিন গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা দুদল সুযোগ পাবে পরের ধাপে অর্থাৎ কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার। গোল ব্যবধানে উজবেকিস্তান (-৮) ও চাইনিজ তাইপে (-৭) থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকায় বাংলাদেশের (-৩) সামনে নকআউট পর্বের দরজা খোলা রয়েছে।
দুই ম্যাচে হারলেও দলের মানসিক অবস্থা নিয়ে তারপরও আত্মবিশ্বাসী সহকারী কোচ আবুল হোসেন। চীনের বিপক্ষে ম্যাচের পর এক দিনের বিশ্রাম কাটিয়ে গতকাল নিবিড় অনুশীলনে ঘাম ঝরিয়েছে দল।
কোচের মতে, দলের ফুটবলাররা মানসিকভাবে শক্ত অবস্থানে আছেন এবং ভিয়েতনামের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দিতে মুখিয়ে আছেন।
আবুল হোসেন বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) কীভাবে ম্যাচ খেলবে আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি এবং প্লেয়ারদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে, ম্যাচে তাদের সেরাটা দেওয়ার জন্য। সবাই চেষ্টা করবে তাদের সেরাটা দেওয়ার জন্য ইনশাআল্লাহ। আমরা কোচেরা সবসময় আত্মবিশ্বাসী এবং প্লেয়াররা বোঝতে পেরেছে, তারাও আত্মবিশ্বাসী কারণ ম্যাচ বাই ম্যাচ তারা ভালো করেছে। আমরা দুটো ম্যাচ হেরেছি কিন্তু প্লেয়াররা খুব চেষ্টা করেছে তাদের সেরাটা দেওয়ার জন্য। জিতলে আমাদের দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার একটা পসিবিলিটি আছে, সেই জন্য প্লেয়াররা উদ্বুদ্ধ যে তারা আগামীকাল (আজ) ম্যাচটা জিততে চায়।’
বড় মঞ্চে চাপ থাকবে এটা স্বাভাবিক। সহকারী কোচ জানিয়েছেন ফুটবলারদের কোনো রকম চাপ দিতে চান না। স্বাভাবিক খেলাটাই খেলাতে চান। আবুল হোসেন বলেন, ‘প্লেয়ারদের মধ্যে বাড়তি কোনো প্রেশার নেই। প্লেয়ারদের আমরা এতটুকুই বলেছি, তারা তাদের নিজস্ব সেরাটা দেওয়ার জন্য। এটা তাদের কোনো বাড়তি প্রেশার নয় যে জিততেই হবে আমাদের। তোমরা যদি স্বাভাবিক খেলা খেল, তোমাদের সেরাটা দিয়ে খেলতে পার, তা হলে ম্যাচ আমরা জিতব ইনশাআল্লাহ।’
দলের প্রধান ফরোয়ার্ড সুরভি আকন্দ প্রীতিও শোনান আশার বাণী। প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতার মূলপর্বে খেলতে এসে শূন্য হাতে ফিরতে চায় না বাংলাদেশ। বরং সবটুকু সামর্থ্য উজাড় করে দিয়ে সমীকরণ মিলিয়ে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করাই এখন একমাত্র লক্ষ্য।
প্রীতি বলেন, ‘কালকে (গত পরশু) আমাদের ফুল রেস্ট ছিল, রিকভারি করেছি আর আজকে (গতকাল) আমরা ভালো একটা ট্রেনিং সেশন করেছি। কোচ আমাদের ফিনিশিং ড্রিল করিয়েছে। আমাদের এর আগের ম্যাচে, চায়না ম্যাচে যা যা ভুলত্রুটি হয়েছে, আজকে (গতকাল) তা ধরিয়ে দিয়েছে।’
লড়াইয়ের আগে দল নিয়েও চিন্তা নেই তার। প্রীতি বলেন, ‘টিমের সবাই সুস্থ আছে। তো আমাদের কালকে (আজ) একটা ভালো ম্যাচ আছে ভিয়েতনামের বিপক্ষে, তো এই ম্যাচে জেতার চেষ্টা করব। আমাদের কোচ যেভাবে বলবে খেলার জন্য আমরা সেভাবে খেলার চেষ্টা করব। আমাদের সবার প্রত্যাশা, দেশবাসী আমাদের সাপোর্ট করবে আমরা যেন ভালো খেলতে পারি।’
সবকিছু ছাপিয়ে শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে জয় ছিনিয়ে ইতিহাস গড়তে পারবে তো বাংলাদেশ?