হাইভোল্টেজ ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটের লড়াই। রাতে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হবে স্প্যানিশ জায়ান্ট ও রেকর্ড ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ।
জাভি আলোনসোকে বরখাস্ত করা এবং আলভারো আরবেলোয়াকে নিয়োগ দেওয়ার মতো নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে লস ব্লাঙ্কোসদের (রিয়াল মাদ্রিদ) এই মৌসুমটি বেশ চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে কাটছে। তবু তারা লা লিগা এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ উভয় শিরোপার লড়াইয়ে টিকে আছে। তবে গত উইকেন্ডে মায়োর্কার কাছে ২-১ গোলে হেরে যাওয়ায় তাদের লা লিগা জয়ের স্বপ্নে বড় ধাক্কা লেগেছে। এই হারের ফলে বার্সেলোনা সাত পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে গেছে, যার অর্থ রিয়াল মাদ্রিদ এখন তাদের চিরচেনা ক্ষেত্র ইউরোপীয় আসরেই বেশি মনোযোগ দিতে পারে।
লিগপর্বে অল্পের জন্য সেরা আটের মধ্যে থাকতে না পারলেও, নকআউট প্লে-অফ রাউন্ডে বেনফিকাকে ৩-১ গোলে হারিয়ে তারা নকআউট পর্বে ওঠে। এরপর শেষ ১৬-এর লড়াইয়ে ম্যানচেস্টার সিটিকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়। কোয়ার্টার ফাইনালে তারা তাদের পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বী বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এটি হবে এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার হওয়া (২৯তম বার) লড়াই।
মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে রিয়াল মাদ্রিদ কিছুটা এগিয়ে আছে। ২৮ বারের দেখায় তারা ১৩টিতে জিতেছে এবং ১১টিতে হেরেছে। গত ৯ বারের দেখায় তারা অপরাজিত, যার মধ্যে সাতটি জয় এবং দুটি ড্র রয়েছে। ইতিহাস আরও বলছে, যদি রিয়াল যদি এই কোয়ার্টার ফাইনালে জিততে পারে তবে তাদের শিরোপা জেতার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। কারণ গত চারবার যখনই তারা বায়ার্ন মিউনিখকে বিদায় করেছে, শেষ পর্যন্ত তারাই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা ঘরে তুলেছে।
তবে সম্ভবত এই মৌসুমে সেরা ফর্মে থেকেই বায়ার্ন মিউনিখ এই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। ভিনসেন্ট কোম্পানির শিষ্যরা এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার ক্ষেত্রে অন্যতম ফেবারিট। বাভারিয়ানরা এই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৩টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটিতে হেরেছে। তাদের সর্বশেষ হারটি ছিল গত ২৪ জানুয়ারি বুন্দেসলিগায় অগসবার্গের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে।
রিয়াল মাদ্রিদের মতো প্লে-অফ খেলতে হয়নি বায়ার্নকে; লিগপর্বে দ্বিতীয় স্থানে থেকেই তারা সরাসরি শেষ ১৬ নিশ্চিত করে। তারা কেবল আর্সেনালের কাছে ৩-১ গোলে হেরেছিল। শেষ ১৬-এর লড়াইয়ে তারা ইতালীয় ক্লাব আতালান্তাকে দুই লেগ মিলিয়ে ১০-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে সহজ জয় পায়।
বুন্দেসলিগায় বায়ার্ন মিউনিখ টেবিলের শীর্ষে ৯ পয়েন্টের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে আছে। যার ফলে কোচ কোম্পানি গত উইকেন্ডে ফ্রেইবার্গের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিতে পেরেছিলেন। সেই ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও বায়ার্ন দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় এবং ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। টম বিশফের জোড়া গোল এবং ৯৯ মিনিটে লেনার্ট কার্লের জয়সূচক গোলটি তাদের অপরাজিত থাকার ধারাকে ১৩ ম্যাচে নিয়ে গেছে। এই ফলাফল বায়ার্নকে দারুণ আত্মবিশ্বাস জোগাবে। তারা চাইবে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে গত কয়েক ম্যাচে জয়হীন যাত্রার অবসান ঘটিয়ে নিজেদের মাঠে দ্বিতীয় লেগের আগে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে।
রিয়াল কোচ আরবেলোয়া চোট সমস্যা নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় আছেন। থিবো কোর্তোয়া এবং রদ্রিগো নিশ্চিতভাবেই ছিটকে গেছেন আর ফারল্যান্ড মেন্ডি ও দানি সেবালোসকে পাওয়া নিয়েও সংশয় রয়েছে। ১৩ গোল নিয়ে কিলিয়ান এমবাপে এই আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা, আক্রমণভাগে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের সঙ্গে তার শুরু করার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, বায়ার্ন কোচ কোম্পানি চোটের কারণে সভেন উলরাইখ, ক্যাসিয়ানো কিয়ালা, ডেভিড সান্তোস এবং উইজডম মাইককে পাবেন না। এমনকি হ্যারি কেনের শুরু করা নিয়েও কিছুটা সন্দেহ আছে। কেনের অনুপস্থিতিতে নিকোলাস জ্যাকসন শুরু থেকে আক্রমণভাগ সামলাতে পারেন। সবকিছু ছাপিয়ে মাঠের লড়াইয়ে এগিয়ে যেতেই মাঠে নামবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি। একই সময়ে শেষ আটের আরেক ম্যাচে পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্টিং সিপির মুখোমুখি হবে ইংলিশ জায়ান্ট আর্সেনাল।