যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশবিষয়ক বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস উইন্টারটন অব ডনকাস্টার, ডিবিই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকা সফর করছেন। এই সফরে তিনি উভয় দেশের সাধারণ অগ্রাধিকার বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন এবং বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাজ্যকে একটি নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে পুনরায় নিশ্চিত করবেন।
ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশন সোমবার এক বার্তায় জানায়, যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশবিষয়ক বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস উইন্টারটন অব ডনকাস্টার, ডিবিই এই সপ্তাহে ঢাকা সফর করছেন। এ সফরের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সুবিধাজনক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে তার এটি তৃতীয় সফর।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের পর নতুন নির্বাচিত সরকার গঠনের পর এই সফরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যা বাণিজ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা, বিমান চলাচল এবং প্রতিরক্ষা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর করার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটায়।
বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস উইন্টারটন বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী ও ঐতিহাসিক অংশীদারত্ব রয়েছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে আমাদের উভয় দেশই উপকৃত হচ্ছে। সরকারি নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নতুন সুযোগ চিহ্নিত করতে পারব বলে আমি আশাবাদী, যা উভয় দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, যৌথ প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ সম্পর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এক বছরে ব্যারোনেস উইন্টারটনের
তৃতীয় সফর এই প্রতিশ্রুতিকে কতটা গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হচ্ছে তার প্রমাণ। বাংলাদেশ যখন একটি নতুন উত্তেজনাপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করছে, তখন এই সফর আমাদের অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম রফতানি বাজার এবং অন্যতম প্রধান উন্নয়ন ও বিনিয়োগ অংশীদার। এই সফর বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও বৈচিত্র্যময়, স্থিতিস্থাপক ও উচ্চমূল্যের অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করতে যুক্তরাজ্যের সমর্থনের পুনরায় নিশ্চয়তা প্রদান করে।
সফরকালে ব্যারোনেস উইন্টারটন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তিনি উভয় দেশের সাধারণ অগ্রাধিকার বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন এবং বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাজ্যকে একটি নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে পুনরায় নিশ্চিত করবেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশে কর্মরত যুক্তরাজ্যের কোম্পানির প্রতিনিধিসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করা হবে। পাশাপাশি ব্যারোনেস উইন্টারটন যুক্তরাজ্যের ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম (ডিসিটিএস) ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে পণ্য রফতানি করে এমন বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন। ডিসিটিএস বিশ্বের অন্যতম উদার বাণিজ্য অগ্রাধিকার স্কিম। এটি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা করার জন্য নকশা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিস্তৃত পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার, উৎপত্তির নিয়ম সরলীকরণ করে রফতানিকারকদের জন্য যোগ্যতা অর্জন সহজ করা, পোশাকের বাইরে রফতানি বৈচিত্র্যকরণকে উৎসাহিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নকে উৎসাহিত করা, এই সুবিধাগুলো পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশ ডিসিটিএসের অধীনে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী। এর ফলে ব্রিটিশ ভোক্তারা প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে উচ্চমানের পণ্য পাচ্ছেন এবং বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে।