উপসাগরজুড়ে বেড়েছে উত্তেজনা, ইরানের হামলায় বন্ধ সৌদিতে তেল উৎপাদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে এবার বড় ধাক্কা খেল সৌদি আরবের জ্বালানি খাত। ইরানের হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটির পূর্বাঞ্চলে তেল উৎপাদন সাময়িকভাবে

2026-04-07T13:35:46+00:00
2026-04-07T13:57:14+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
উপসাগরজুড়ে বেড়েছে উত্তেজনা, ইরানের হামলায় বন্ধ সৌদিতে তেল উৎপাদন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩৫ পিএম  আপডেট: ০৭.০৪.২০২৬ ১:৫৭ পিএম
সৌদি আরবের জুবাইলের একটি পেট্রোক্যামিকেল প্ল্যান্ট। সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে এবার বড় ধাক্কা খেল সৌদি আরবের জ্বালানি খাত। ইরানের হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটির পূর্বাঞ্চলে তেল উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া অন্তত সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে। তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্রের আশপাশে পড়ে, যার ফলে নিরাপত্তাজনিত কারণে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

সৌদির পূর্বাঞ্চল দেশটির জ্বালানি খাতের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ তেল স্থাপনা অবস্থিত। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো হামলা বা অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

এ ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয় পুরো এলাকায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় কিং ফাহাদ সেতুতে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই সেতুটি সৌদি আরবকে বাহরাইনের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত।


উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে হামলার পর ইরানি গণমাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করে একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকায় কিং ফাহাদ সেতুর নামও ছিল। এছাড়া কুয়েতের শেখ জাবের কজওয়েকেও সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতে ‘পাল্টা হামলা’র ধারা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যখন ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানছে, তখন তার প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করছে—বিশেষ করে যেসব দেশ ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে সহায়তা করছে বলে তেহরান মনে করে।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, একই দিনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ১৮টি ড্রোন হামলার চেষ্টা চালিয়েছে ইরান। যদিও সেগুলোর সবই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

এদিকে, শুধু সৌদি আরব নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়েই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বাহরাইনে একাধিকবার সতর্ক সংকেত বাজানো হয়েছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতেও একই ধরনের নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

চলমান এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে এবং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে জ্বালানি বাজারে গভীরভাবে পড়বে।


/ইউএমএইচ



  বিষয়:   ইরান  হামলা  সৌদি  উপসাগর  তেল 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: