উৎসবে উজ্জ্বল ঘর

নিবেদিতা দাস

ফিচার

বাংলা নববর্ষ মানেই নতুনের আহ্বান আর আনন্দের উচ্ছ্বাস। পুরোনো ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে ঘরে আসে সতেজতা, রং আর উৎসবের আবহ। এই

2026-04-07T15:26:20+00:00
2026-04-07T15:26:20+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
ফিচার
উৎসবে উজ্জ্বল ঘর
নিবেদিতা দাস
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২৬ পিএম 
উৎসবে উজ্জ্বল ঘর। ছবি : সময়ের আলো
বাংলা নববর্ষ মানেই নতুনের আহ্বান আর আনন্দের উচ্ছ্বাস। পুরোনো ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে ঘরে আসে সতেজতা, রং আর উৎসবের আবহ। এই বিশেষ দিনে ঘর সাজানোর মধ্যেও ফুটে ওঠে বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর নিজস্ব নান্দনিকতা। খুব ব্যয়বহুল বা জটিল কিছু নয়- ফুল, মাটির পাত্র আর মোমবাতির মতো সহজ উপকরণ দিয়েই ঘরকে দেওয়া যায় একেবারে বৈশাখী আবহ। এতে করে ঘরের পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও আন্তরিক ও নিজের মতো।

ফুলে ফুটুক উৎসবের প্রাণ
বৈশাখ মানেই উজ্জ্বল রঙের ছোঁয়া। সেই রঙে ফুলের ব্যবহার যেন অবিচ্ছেদ্য। গাঁদা, রজনিগন্ধা, গোলাপ কিংবা জুঁই- এই ফুলগুলো ঘরে এনে দেয় এক ধরনের সতেজতা।  গাঁদা ফুলের উজ্জ্বল কমলা-হলুদ রং মুহূর্তেই ঘরে এনে দেয় উৎসবের আবহ। দরজার ওপরে বা জানালার পাশে গাঁদা ফুলের মালা ঝুলিয়ে দিলে বদলে যায় পুরো পরিবেশ। পাশাপাশি রজনিগন্ধা বা জুঁই ফুলের নরম সাদা সৌন্দর্য ঘরে যোগ করে প্রশান্তির ছোঁয়া। ছোট ছোট কাচের বাটি বা মাটির পাত্রে পানি ভরে তার ওপর ভাসানো ফুল রাখলে সেটিও হয়ে ওঠে দারুণ একটি সেন্টারপিস। এতে যেমন ঘরের সৌন্দর্য বাড়ে, তেমনি ফুলের হালকা সুগন্ধ মনকেও রাখে সতেজ।

ইন্টেরিয়র ডিজাইনার মো. আবু হুরায়রা জুয়েল বলেন, ‘বৈশাখের সাজে কৃত্রিমতা নয়, বরং দেশীয় উপাদানের ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। মাটির জিনিস, তাজা ফুল আর আলো- এই তিনটি উপাদানই ঘরে একটি উষ্ণ ও প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করে, যা উৎসবকে আরও কাছের করে তোলে।’
আরও পড়ুন

গৃহিণী রোকসানা বেগম মনে করেন, ‘তাজা ফুল শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, মনকেও প্রফুল্ল রাখে। বিশেষ দিনে ফুলের ব্যবহার আমাদের মানসিক প্রশান্তি দেয়।’

মাটির পাত্রে গ্রামীণ সৌন্দর্য
মাটির পাত্র বাঙালির ঐতিহ্যের এক চিরচেনা প্রতীক। ছোট-বড় হাঁড়ি, কলস, ফুলদানি কিংবা শোপিস- এসবের ওপর আলপনা আঁকা বা রং করা হলে তা আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। বৈশাখের সাজে এই পাত্রগুলো ব্যবহার করলে ঘরে আসে এক ধরনের গ্রামীণ আবহ, যা শহুরে ব্যস্ততার মাঝেও এনে দেয় স্বস্তি।

আপনি চাইলে নিজের মতো করে এসব পাত্রে লাল-সাদা রঙে আলপনা এঁকে নিতে পারেন, যা বৈশাখের মূল রঙের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যায়। আবার একাধিক মাটির পাত্র একসঙ্গে সাজিয়ে তার মধ্যে ফুল বা ছোট গাছ রাখলেও তৈরি হয় আকর্ষণীয় কোণ। প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে সাজানো ঘর চোখে আরাম দেয় এবং মনেও প্রশান্তি আনে- যা উৎসবের দিনগুলোতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ইন্টেরিয়র ডিজাইনার মো. জুয়েলের মতে, ‘মাটির পাত্র ব্যবহার করলে ঘরে এক ধরনের প্রাকৃতিক ও আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি হয়, যা আধুনিক ডেকোরেশনের চেয়েও অনেক বেশি প্রাণবন্ত।’

মোমবাতির আলোয় সন্ধ্যার মায়া
দিনশেষে যখন সন্ধ্যা নামে, তখন মোমবাতির নরম আলো ঘরের পরিবেশকে করে তোলে মায়াময়। ছোট ছোট মোমবাতি কাচের জার বা মাটির পাত্রে রেখে সাজানো যায় টেবিল, বারান্দা কিংবা জানালার পাশে।

ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে তার মাঝখানে মোমবাতি বসিয়ে তৈরি করা যায় মনোমুগ্ধকর এক পরিবেশ। আলো আর ফুলের এই মেলবন্ধন ঘরে এনে দেয় শান্ত ও উৎসবমুখর অনুভূতি।

শিক্ষক রোমানা চৌধুরী বলেন, ‘মোমবাতির আলো খুব সাধারণ একটি উপকরণ হয়েও ঘরের পরিবেশ পুরো বদলে দিতে পারে। এটি বৈশাখের সাজে এক ধরনের কোমলতা যোগ করে।’

সাজে থাকুক সহজতার ছোঁয়া
বৈশাখের ঘর সাজাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সহজ কিছু উপকরণ। অতিরিক্ত কিছু নয়, বরং সামান্য কিছু উপকরণ দিয়েই তৈরি করা যায় দারুণ একটি পরিবেশ। দরজায় ফুলের মালা, টেবিলে ভাসমান ফুল, কোণে সাজানো মাটির পাত্র আর সন্ধ্যায় মোমবাতির আলো, দেয়ালে আলপনা বা ছোট হ্যান্ডমেড ডেকোর ব্যবহার করা যায়। এই ছোট ছোট আয়োজনেই ধরা পড়ে বড় আনন্দ।

সবশেষে বলা যায়, বাংলা নববর্ষের ঘর সাজানো শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি নিজের সংস্কৃতিকে নতুন করে অনুভব করা। খুব সহজ কিছু উপকরণ দিয়েই ঘরকে করে তোলা যায় উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত। ফুলের সৌরভ, মাটির গন্ধ আর মোমবাতির আলো- এই তিনের সমন্বয়েই তৈরি হোক আপনার বৈশাখের বিশেষ আবহ।

এএডি/


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: