পাপাচার ‘শেয়ার’ করাও পাপ

আব্দুল্লাহ আল হাদী

ইসলাম

মানবসভ্যতার বর্তমান সময় নতুন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। বাস্তব জগতের পাশাপাশি গড়ে উঠেছে অদৃশ্য ও আন্তর্জাতিক আরেক জগৎ। সবার হাতে

2026-04-07T15:37:04+00:00
2026-04-07T15:37:04+00:00
 
  বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইসলাম
পাপাচার ‘শেয়ার’ করাও পাপ
আব্দুল্লাহ আল হাদী
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৭ পিএম 
প্রতীকী ছবি
মানবসভ্যতার বর্তমান সময় নতুন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। বাস্তব জগতের পাশাপাশি গড়ে উঠেছে অদৃশ্য ও আন্তর্জাতিক আরেক জগৎ। সবার হাতে এখন মোবাইল ফোন। পুরো পৃথিবী হাতের মুঠোয়। কর্মব্যস্ত মানুষের হাতে এখন সশরীরে বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-পরিজনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের অবকাশ খুব কম। এখনকার সময়ে পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা ও কুশল বিনিময়ের প্রধানতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, ফেসবুক।

এর প্রচলন, ব্যবহার ও ব্যবহারকারী সর্বাধিক। ফেসবুকেই মানুষ এখন নিজেদের দৈনন্দিন সুখ-দুঃখ, অর্জন-সাফল্য, হতাশা, পছন্দ-অপছন্দসহ নানা অভিব্যক্তি পরিচিতদের সঙ্গে ‘শেয়ার’ বা ভাগাভাগি করে থাকে। নয়া যুগের মানুষের যোগাযোগ রক্ষার নয়া মাধ্যম এই ফেসবুক এখন আর নিছক এক ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম হয়ে নেই, এটি যেন এখন সশরীরে দেখা-সাক্ষাতের এক জীবন্ত বিকল্প হয়ে উঠেছে। এখানে কেউ একজন নিজের কোনো এক অনুভূতি শেয়ার করার পর মুহূর্তেই তার ‘ফ্রেন্ড’রা ‘কমেন্টে’র মাধ্যমে তার সাড়া দিচ্ছে, প্রশংসা-সমালোচনা করছে, নিজের মতটাও দিয়ে দিচ্ছে। এ যেন এক সাক্ষাৎ আড্ডা! যা হোক, অনুভূতি শেয়ার ও কুশল বিনিময় ছাড়াও ফেসবুকের পরিচিত অনেক ফিচার বা বিচিত্র আয়োজন রয়েছে।

Advertisement
এসবের মধ্যে এখানে ফেসবুকের ‘অ্যাক্টিভিটি শেয়ারিং’ বিষয়টাকেই আলোচনার জন্য পাড়া হচ্ছে। এই অ্যাক্টিভিটি শেয়ারিং ব্যাপারটা হচ্ছে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী কী করছেন, এর মাধ্যমে তিনি তার ফ্রেন্ডদের সে সম্পর্কে অবহিত করতে পারেন। যেমন কেউ একজন কোথাও সফর করছেন, তখন তিনি ‘ট্রাভেলিং’ অপশনটিকে নির্বাচন করে পোস্ট-শেয়ার করতে পারেন। এর ফলে সবাই জানল যে তিনি কোথাও যাচ্ছেন। তেমনি সেখানে ‘লিসেনিং টু’ এবং ‘ওয়াচিং’ অপশনও রয়েছে।
আরও পড়ুন

অধিকাংশ সময়েই ফ্রেন্ডদের দেখা যায় শেষোক্ত দুটি অপশনের ক্ষেত্রে ‘লিসেনিং টু আ সং’; অর্থাৎ তিনি একটি গান শুনছেন বলে এক প্রকার ঘোষণা দিয়ে থাকেন। আবার কেউ ‘ওয়াচিং আ মুভি’ অর্থাৎ একটি সিনেমা দেখছেন বলে জানান দিয়ে থাকেন। কথা হচ্ছে, এভাবে ঘোষণা দিয়ে গান শোনা ও সিনেমা দেখা সম্পর্কে কি ইসলামের কোনো দৃষ্টিভঙ্গি আছে?

এ ব্যাপারে কী বলে ইসলামি মূলনীতি? বলার অপেক্ষা রাখে না যে অশালীন-অশ্লীল নাচ-গানবিশিষ্ট প্রচলিত নাটক-সিনেমা এবং বাদ্যযন্ত্র সহযোগে প্রচলিত গান-বাজনা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও মন্দ কাজ বলে বিবেচিত।

যার ফলে এসব মন্দ কাজ নিজে করা এক ধরনের গুনাহের কাজ এবং তা ঘোষণা দিয়ে সবাইকে জানিয়ে করা আরেকটি গুনাহের কাজ। বরং এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় কাজটি আরও বড় গুনাহ। কেননা অশ্লীল বিষয়ের ঘোষণা দিয়ে তিনি নিজের গুনাহের প্রচার করছেন এবং অন্যদেরও তার প্রতি উৎসাহিত করছেন; অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন অশ্লীলতা। এ মর্মে পবিত্র কুরআনের একটি আয়াতের উল্লেখই আমাদের সংশোধনের জন্য যথেষ্ট বলে মনে করি।

মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘যারা মুমিনদের মাঝে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, নিঃসন্দেহে তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি; আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না’ (সুরা নুর, আয়াত : ১৯)। আল্লাহ আমাদের বোঝার ও মানার তওফিক দিন।

এএডি/
Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: