রাজনৈতিক নেতারা যতদিন প্রয়োজন মনে করবেন, ততদিন ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। সোমবার (৬ এপ্রিল) ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এই ঘোষণা দিয়েছেন।
দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেছেন, রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যতদিন উপযুক্ত মনে করবেন, ততদিন আমরা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারি।
তিনি বলেন, শত্রুপক্ষকে অবশ্যই (তাদের কাজের জন্য) অনুতপ্ত হতে হবে। কারণ এই যুদ্ধের পর আমাদের এমন এক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পৌঁছাতে হবে; যেখানে আর যাতে আমাদের কোনও যুদ্ধের সাক্ষী হতে না হয়।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, ‘ভবিষ্যতে যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে শত্রুকে প্রকৃত অনুতাপে বাধ্য করা দরকার। যাতে শত্রুরা আর কখনোই এ দেশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস না পায়। এ জন্য আমাদের প্রতিরোধের মাত্রা সেই পর্যায়ে উন্নীত করা হবে।’
তিনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে, হুমকির জবাব দিয়েছে এবং শত্রুর হুমকি মোকাবিলা করছে। ইরানি এই জেনারেল বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছি, যুদ্ধের এই পর্যায়ে শত্রুরা তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ এবং পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে।’
মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর ক্রমাগত বিমান হামলার মুখেও ইরানের সামরিক বাহিনীর এই বক্তব্য দেশটির অনড় মনোভাবকেই ফুটিয়ে তুলেছে। রাজনৈতিক নেতাদের নির্দেশ অনুযায়ী সেনাবাহিনী যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে সামরিক মুখপাত্রের এই মন্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক বাহিনী বড় আকারের সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের শুরুতেই দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলি খামেনি এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।