মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার হামলা শুরু করেছে ইরান।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মিরর এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ট্রাম্প যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, তা শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তেই এসব সাইবার হামলা শুরু হয়।
মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা পরিচালনায় ব্যবহৃত ইন্টারনেট-সংযুক্ত ব্যবস্থাগুলো টার্গেট করা হচ্ছে। প্রোগ্রামেবল কন্ট্রোলারের মতো ডিভাইস ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলি খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এর পরপরই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে তেহরান।
গত এক মাসের বেশি সময় ধরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে হুমকি দিয়ে বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত না মানলে ‘এক রাতের মধ্যেই একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে’। এতে ইরানে সম্ভাব্য পরমাণু হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইরান শর্ত না মানলে প্রেসিডেন্ট কী পদক্ষেপ নেবেন, তা একমাত্র তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন।
এদিকে, গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতা লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রও অংশ নেয়। সে সময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাত হানার দাবি করে পেন্টাগন।
পরবর্তীতে ১২ দিনের সংঘাত শেষে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস থেকেই যায়। সেই উত্তেজনার ধারাবাহিকতাতেই বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন।