বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে মঙ্গলবার দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করা হয়েছে।
ঢাকার পক্ষে এমওইউতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) অথরিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরী এবং লন্ডনের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। এ সময় ঢাকা সফররত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটন অব ডনকাস্টার, ডিবিই উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত চলতি সপ্তাহে ঢাকা সফরে এসেছেন দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে। এই চুক্তি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এতে বিনিয়োগ সহজীকরণ, জ্ঞান বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিমান চলাচল খাতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাজ্যের দূতাবাস মঙ্গলবার জানায়, বাংলাদেশ সরকার ও যুক্তরাজ্য মঙ্গলবার একটি এমওইউ স্বাক্ষর করেছে, যা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) সহযোগিতা বাড়াতে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে যৌথ প্রতিশ্রুতি জোরদার হলো।
সিভিল অ্যাভিয়েশন ও ট্যুরিজম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, এই এমওইউতে সাক্ষী হতে পেরে আমি আনন্দিত। এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে অংশীদারত্ব ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে বলে আশা করছি। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, পিপিপিএ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে দেশের এজেন্ডা এগিয়ে নেবে। বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের যৌথ স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সহযোগিতায় আমাদের পূর্ণ সমর্থন ও প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
ঢাকা সফররত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটন বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক অংশীদার। এই এমওইউ আমাদের যৌথ উচ্চাকাক্সক্ষা প্রতিফলিত করে, এমন একটি বিমান চলাচল খাত গড়ে তোলা যা বাণিজ্য, পর্যটন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি হবে। এই চুক্তি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যা উভয় দেশের জন্যই উপকারি হবে। আজকের এই চুক্তি মাঠ পর্যায়ে বাস্তব অগ্রগতিতে রূপ নেবে এটাই আমার প্রত্যাশা।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারীদের একটি হিসেবে যুক্তরাজ্য একটি নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদার। আজকের এই এমওইউ আমাদের যৌথ প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন, যা উভয় দেশের জন্য লাভজনক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে।
পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) অথরিটির সিইও আশিক চৌধুরী বলেন, এই এমওইউ একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সমর্থন এবং সিভিল অ্যাভিয়েশন ও ট্যুরিজম মন্ত্রণালয়ের প্রতিশ্রুতি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম বিনিয়োগকারী, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা কোনো বড় নতুন ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীকে বাজারে প্রবেশ করতে দেখিনি। এই চুক্তি স্পষ্ট সংকেত দেয় যে বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত এবং নতুন প্রজন্মের বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। এটি আমাদের তরুণ কর্মশক্তির জন্য সুযোগ তৈরি করবে এবং তাদের বিশ্বব্যাপী গতিশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে। সামনের সম্ভাবনা নিয়ে আমরা উচ্ছ্বসিত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং সিভিল অ্যাভিয়েশন ও ট্যুরিজম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। বাংলাদেশ বিশ্বের জন্য ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত এবং যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা আমাদের জনগণের সৃজনশীল সম্ভাবনা উন্মোচন করতে চাই, বিশেষ করে তরুণদের, পাশাপাশি ব্রিটিশ ডায়াসপোরা ব্যবসায়ীদের শক্তি ও গতিশীলতাকে কাজে লাগাতে চাই। আমরা যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা আরও গভীর ও সম্প্রসারিত করতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, এই চুক্তি বিভিন্ন খাতে আরও বিস্তৃত ও ব্যাপক সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সিভিল অ্যাভিয়েশন ও ট্যুরিজম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিভাগের পরিচালক সাকিব এরশাদ এবং উপপরিচালক সাইয়াব আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।