নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সবুজ ওরফে কালাই সবুজসহ তার সহযোগী এজাজুল হককে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৭ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সবুজ সাতটি হত্যা মামলাসহ ২৬ মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ছিলেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকার ডেমরা থানার কোনাপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতার সবুজ ওরফে কালাই সবুজ রুপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও এলাকর কালাইয়ের ছেলে। তার সহযোগী এজাজুল হক একই উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের মৃত শাহাদাতে ছেলে।
রুপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন জানান, সবুজ দীর্ঘদিন থেকে মানুষকে অপহরণ করে পরিবার থেকে মুক্তিপণ নেয়াসহ বিভিন্ন খুন এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। চার মাসের চেষ্টার পরে ঢাকার ডেমরা থানার কোনাপাড়া এলাকা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৭ রাউন্ড গুলিসহ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তার বিরুদ্ধে থানায় ৭টি হত্যা মামলাসহ মোট ২৬টি মামলা রয়েছে। সে পলাতক অবস্থায় দীর্ঘদীন থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে, সহযোগী এজাজুল হককেও রূপগঞ্জের রুপসি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সেও থানায় একাধিক মামলার আসামি।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৫ নভেম্বর রূপগঞ্জের মাছিমপুরে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে জালালউদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম বাবুকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই মামলায় ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মমিনুল ইসলাম ওই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন উপস্থিত ছিলেন, বাকিরা পলাতক।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, গ্রেফতার সবুজ, মিজান, মোহাম্মদ আলী, আব্দুল লতিফ, হানিফ, সোহেল, মিলন, সেলিম, গুলজার, লেদা ফারুক, রাসেল, মোমেন, সাদ্দাম, শাহীন, রুহুল আমিন, আবুল ও পণ্ডিত।
খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, আবু, মাসুদ, মান্নান, শামীম, সোহেল ও দেলোয়ার। আবুল হাসেম ও শওকত মামলা চলাকালীন সময় মারা যান। পরে জামিনে বেরিয়ে আসা আসামিরা ২০১৫ সালের ১৪ মে নিহত নজরুল ইসলাম বাবুর পিতা জালালউদ্দিনকেও বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহত জালালউদ্দিনের স্ত্রী সোহেলসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সময়ের আলো/এনএন