স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে একটি গিরিখাত থেকে উদ্ধার করা অজ্ঞাত পরিচয়ের মরদেহ এক বছর পর শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহটি হাঙ্গেরীয় টিভি তারকা, অভিনেত্রী ও ইনফ্লুয়েন্সার অ্যানাবেলা লোভাসের।
গত বছরের ৬ মার্চ গ্রান ক্যানারিয়া দ্বীপের দুর্গম হাইকিং এলাকা বেরিয়েল গিরিখাতের কাছে একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকালে মরদেহের কোমরের নিচের অংশ বিবস্ত্র ছিল এবং সঙ্গে কোনো পরিচয়পত্র বা ব্যক্তিগত সামগ্রী পাওয়া যায়নি। সে সময় প্রাথমিক ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল ও সাইরেনের সহায়তায় তদন্ত চালানো হয়। এতে জানা যায়, ওই দ্বীপে অবস্থানকালে অ্যানাবেলা লোভাস নিখোঁজ হয়েছিলেন এবং এ বিষয়ে ডায়েরিও করা হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, তার পিঠের ট্যাটু ও দাঁতের গঠন পরীক্ষা করে শেষ পর্যন্ত মরদেহটি অ্যানাবেলা লোভাসের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৩২ বছর।
তবে এখনো তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। ময়নাতদন্তে সহিংস মৃত্যু, শ্বাসরোধ বা যৌন নির্যাতনের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
পুলিশের ধারণা, তিনি অন্য কোনো এলাকায় দুর্ঘটনাবশত বা আত্মহত্যার কারণে মারা যান এবং পরে বন্যার পানিতে মরদেহটি বেরিয়েল এলাকায় ভেসে আসে।
সংবাদমাধ্যমের তথ্যে জানা গেছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল মুছে ফেলার কারণে তার পরিবার নিখোঁজের ডায়েরি করে। সে সময় তাকে গ্রান ক্যানারিয়ার একটি হোটেল থেকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে কয়েকদিন পর আবারও নিখোঁজ হন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের মার্চের প্রথম সপ্তাহে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, অ্যানাবেলা লোভাস হাঙ্গেরির জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো আ নাগি ও এর মাধ্যমে পরিচিতি পান, যা ‘দ্য ব্যাচেলর’ এর হাঙ্গেরীয় সংস্করণ।
পরবর্তীতে ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসেন তিনি।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষতগুলো চিহ্নহীনভাবে কখনো মিলিয়ে যায় না। তবে আমি সবকিছু কাটিয়ে উঠতে পেরেছি, যা আমাকে আরও শক্তিশালী করেছে।