বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি নির্দেশনা মেনে নিয়ে মাল্টিপ্লেক্সগুলো সন্ধ্যার পরের শো বন্ধ রাখছে। ঈদের সিনেমা মুক্তির তৃতীয় সপ্তাহেও যখন প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের ভিড় চোখে পড়ার মতো, ঠিক তখনই এমন সিদ্ধান্তে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার নির্মাতা ও প্রযোজকরা।
এক যৌথ বিবৃতিতে নির্মাতারা জানিয়েছেন, সরকার সংকট মোকাবিলায় রাত ৭টার পর মার্কেট বন্ধ রাখার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা তারা সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের কারণে মার্কেটের ভেতরে থাকা সিনেমা হলগুলোও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যা চলমান ঈদের সিনেমা এবং সামগ্রিক চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সিনেমার মূল দর্শকসমাগম ঘটে সন্ধ্যা ও রাতের শোগুলোতে। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শো বন্ধ হয়ে গেলে বিপুলসংখ্যক দর্শক সিনেমা দেখা থেকে বঞ্চিত হবেন।
আগে মার্কেট নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ হলেও সিনেমা হলগুলোকে সেই নিয়মের বাইরে রাখা হতো। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ব্যবস্থা বজায় রাখার দাবি জানান তারা। একটি সিনেমা নির্মাণের পেছনে প্রযোজকের কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ থাকে। উৎসবের এই কয়েক দিনেই সেই বিনিয়োগ তুলে আনার প্রধান সময়। পিক-আওয়ারে হল বন্ধ থাকলে লগ্নিকৃত অর্থ ফেরত পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সিনেমা হলকে সাধারণ দোকানের আওতামুক্ত রেখে, মার্কেট বন্ধ থাকলেও পূর্বের মতো প্রদর্শনী চালু রাখার সুযোগের দাবি জানিয়েছেন নির্মাতারা। এতে একদিকে দর্শকদের ঈদের আনন্দ পূর্ণতা পাবে, অন্যদিকে প্রযোজকরাও তাদের বিনিয়োগ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
যৌথ এ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার নির্মাতা তানিম নূর, প্রযোজক সাকিব আর খান, ‘রাক্ষস’ সিনেমার প্রযোজক শাহরিন আক্তার সুমি, ‘দম’ সিনেমার নির্মাতা রেদওয়ান রনি ও প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল, ‘প্রেশার কুকার’ নির্মাতা ও প্রযোজক রায়হান রাফী এবং ‘প্রিন্স’ সিনেমার প্রযোজক শিরিন সুলতানা।