মাসুমা রহমান নাবিলা। যিনি একাধারে উপস্থাপক, মডেল এবং অভিনেত্রী। খুব কম কাজে আলোচনায় থাকেন তিনি। গত বছরের মতো এবারও ঈদের আনন্দমেলা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন এ তারকা। বর্তমান ব্যস্ততা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসুদুর রহমান
গতকাল আপনার জন্মদিন ছিল। কেমন কেটেছে বিশেষ দিনটি?
বরাবরের ন্যায় এবারও জন্মদিনে কোনো আয়োজন ছিল না। অন্যান্য দিনের মতো সাধারণভাবেই কেটেছে সারাদিন। বাসাতেই ছিলাম। আগে থেকেই এভাবে নিজের জন্মদিন কাটিয়ে আসছি। আসলে বিশেষ আয়োজনে নিজের জন্মদিন পালনে আমি অভ্যস্থ নই। আমার ভালোও লাগে না। এর পেছনে কোনো কারণ নেই। তবে পরিবারের বাইরে অনেকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্ত-শুভাকাক্সক্ষীরা সুন্দর সুন্দর কথাবার্তা লিখেছেন। এসব বিষয় আমাকে মুগ্ধ করেছে।
ঈদে বিটিভির আনন্দমেলা উপস্থাপনায় দেখা গেছে আপনাকে?
একসময় নিয়মিত উপস্থাপনা করলেও এখন কম করছি। রোজা ও ঈদে একাধিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছি। এর মধ্যে অন্যতম বিটিভির ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান আনন্দমেলা। আমার সঙ্গে উপস্থাপনায় ছিলেন অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ। পেশাদার উপস্থাপক না হলেও সে খুব ভালো করেছে। দুজনে মিলে খুব গোছালো পরিপাটি একটি কাজে অংশ নিয়েছিলাম। দর্শকরাও অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেছেন।
অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে উপস্থাপনার বিষয়টি কেমন উপভোগ করেন?
২০১৭ সালে অভিনেতা আব্দুন নূর সজলের সঙ্গে উপস্থাপনা করেছি। তার উপস্থানার কিছুটা অভিজ্ঞতা রয়েছে। সজলের সঙ্গে একই মঞ্চে কাজটি খুব উপভোগ্য ছিল। এরপর দীর্ঘদিন আনন্দমেলায় কাজ করা হয়নি। গত বছর চিত্রনায়ক ইমনের সঙ্গে উপস্থাপনা করতে গিয়ে আমি অনেকটা অবাকই হয়েছিলাম। অভিজ্ঞতা ছাড়াই উপস্থাপনা করে সে আমাকে চমকে দিয়েছে। আর ইরফান সাজ্জাদ তো আমার পছন্দের অভিনেতা। এমন লোকের সঙ্গে কাজ করাটা ছিল অনেক ভালো লাগার।
ঈদের সিনেমার নিয়মিত দর্শক আপনি। এবারের সিনেমাগুলো কেমন লেগেছে?
ঈদের আনন্দের সঙ্গে সিনেমা দেখা দারুণভাবে যোগ হয়। ঈদের ছুটিতে হলে গিয়ে সিনেমা দেখার মজাটাই আলাদা। একসঙ্গে কয়েকটি সিনেমা মুক্তির বিষয়টি বেশ উপভোগ্য। আমি ঈদের সিনেমা দেখার চেষ্টা করি। এবার সবকটি সিনেমা দেখার সুযোগ হয়নি। ‘দম’ ও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দেখেছি। আমার কাছে দুটি সিনেমাই অনেক ভালো লেগেছে। গল্পে ও অভিনয়ে সবার বিচিত্রতা মিলেছে। বৃহস্পতিবার বন্ধুদের সঙ্গে ‘প্রেশার কুকার’ দেখব। আগে থেকেই এই তিনটি সিনেমার প্রতি আমার আগ্রহ একটু বেশি। বাকি দুটো সিনেমা দেখারও ইচ্ছা আছে।
‘তুফান’-এর পর আপনাকে নতুন সিনেমায় দেখা যাচ্ছে না?
২০২৪ সালের ঈদের সিনেমা ‘তুফান’ মুক্তির পরও একাধিক প্রস্তাব পেয়েছি। কিন্তু ওগুলো আমাকে টানেনি। আমার নিজের কমফোর্ট জোনের মনে হয়নি বলে অভিনয় করিনি। যখন মনের মতো কাজ পাব তখন অবশ্যই সিনেমায় দেখা যাবে। আমি আসলে কাজের ব্যাপারে আরও সচেতন হচ্ছি। গল্প ও চরিত্র পছন্দ না হলে কাজ করছি না। যদি কোনো পরিচালক আমাকে ভাঙতে চান, তা হলে সেই কাজের জন্য আমি প্রস্তুত। তবে সিনেমা না হলেও গত বছর ভিকি জাহেদের পরিচালনায় ‘আকা’ ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছি। প্রচারে আসার পর কাজটি নিয়ে ভালো সাড়া পেয়েছি।
কেমন গল্প ও চরিত্র পছন্দ আপনার?
গতানুগতিকের বাইরে ভিন্ন গল্প পছন্দ আমার। যে গল্পের শেষ পর্যন্ত দর্শক মগ্ন থাকবেন। আর অভিনয়ে নিজেকে ভাঙতে চাই। এমন চরিত্রে অভিনয় করতে চাই, যে চরিত্রে আগে দেখা যায়নি আমাকে। চরিত্রে থাকবে বৈচিত্র্য, আকর্ষণ।
চরিত্রের প্রয়োজনে প্রস্তুতি কতটা জরুরি বলে মনে করেন?
চরিত্র যত সাধারণই হোক ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর আগে স্টাডি করা দরকার বলে মনে করি। প্রস্তুতি ছাড়া চরিত্র পরিপূর্ণতা হয় না। ক্যারিয়ারে প্রতিটি চরিত্রের জন্যই নিজেকে প্রস্তুত করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছি। আমার শেষ কাজ ‘আকা’ ওয়েব সিরিজের মেঘা চরিত্রের জন্যও সময় নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করেছিলাম।
অভিনয়ে নিয়মিত হওয়ার ইচ্ছা আছে?
অভিনয়ে আমি কখনোই নিয়মিত ছিলাম না। উপস্থাপনা দিয়েই শোবিজে আমার পরিচিতি। এই কাজের পাশাপাশি কিছু নাটক-বিজ্ঞাপনে অভিনয় করা হয়েছে। একাধিক সিনেমাতে কাজ করেছি। তবে গতানুগতিক গল্প ও চরিত্রের কারণে অভিনয়ে নিয়মিত হয়নি। শুধু শুধু অভিনেত্রী তকমা লাগিয়ে লাভ নেই।
অভিনেত্রী তৈরিতে লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
এই প্ল্যাটফর্মের অনেক গুরুত্ব। লাক্সের সঙ্গে চ্যানেল আইসহ একাধিক বড় বড় প্রতিষ্ঠান জড়িত। বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত অনেক অভিনেত্রীর আগমন ঘটেছে এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। এবারের প্রতিযোগীতায় শীর্ষ দশের সবাই খুব মেধাবী ও সুন্দরী। এদের মধ্য থেকেই একসময় সৃষ্টি হবে প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী।
উপস্থাপনায় আপনাকে আগের মতো দেখা যাচ্ছে না কেন?
আগের তুলনায় দর্শক টেলিভিশন কম দেখছেন। চ্যানেলগুলোতে বিনোদন অনুষ্ঠান কম হচ্ছে। আগের মতো কাজের প্রস্তাব আসছে না। প্রস্তাব পেলেও মানসম্মত না হলে অনুষ্ঠান করছি না। এ জন্যই উপস্থাপনায় কম দেখা যাচ্ছে। তবে রোজা ও ঈদের বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করা হয়েছে। একাধিক কাজ হাতে রয়েছে। ২৯ এপ্রিল থেকে একটি অনুষ্ঠানে সময় দেব।
ঈদুল আজহার কোনো আয়োজনে থাকছেন কি?
এখনও তেমন কোনো প্রস্তাব আসেনি। অনুষ্ঠান মানসম্মত হলে ভেবে দেখব।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় নতুনরা কেমন করছে?
অনেকেই ভালো করছে। কিছু মেধাবীর আগমন ঘটেছে উপস্থাপনায়। তবে আমার মনে হয় তারা তুলনামূলক বেশি কাজ করার চেষ্টা করে। ধীরেসুস্থে মানসম্মত কম কাজ করাই ভালো। এ ছাড়া উপস্থাপনায় কাউকে ব্যতিক্রম মনে হয় না। সবার উপস্থাপনার ধরন একই রকম লাগে। কোনো পার্থক্য কিংবা বৈচিত্র্য নেই। বিশেষ গুণে নিজস্ব কোনো পরিচিতি তৈরি হচ্ছে না নতুনদের মধ্যে। উপস্থাপনায় আলাদা কিছু উপস্থাপন করতে পারলে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে।
নতুনরা নিজেদের বিকশিত করার কতটা সুযোগ পাচ্ছে?
নতুনরা খুব একটা সুযোগ পাচ্ছে না। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো অনুষ্ঠান কম করছে, যা করছে তা গতানুগতিক। নতুনত্ব না থাকলে সৃজনশীলতা প্রকাশ পায় না। অনুষ্ঠান না হলে নতুনরা নিজেদের মেধার বিকাশ ঘটাবে কী করে? আমাদের সময় অনেক সুযোগ ছিল। বড় বড় অনুষ্ঠান হতো। নিজেকে প্রমাণ করার জায়গা ছিল কিন্তু এখন সেই সুযোগ নেই। এতে কিন্তু চ্যানেলগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভবিষ্যতে তাদের অনুষ্ঠানের জন্য ভালো উপস্থাপক পাবে না। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর মানসম্মত বিনোদন অনুষ্ঠান বাড়ানো উচিত।
উপস্থাপনার জন্য কোন বিষয়গুলো জরুরি?
উপস্থাপনার জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি জানা, বোঝা এবং প্রয়োগ করা। অনুষ্ঠান সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা ছাড়াও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে অবগত থাকতে হবে। উপস্থিত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে। এ ছাড়া শুদ্ধ উচ্চারণ, বাচনভঙ্গি সম্পর্কেও ভালো ধারণা থাকা প্রয়োজন।
সময়ের আলো/কেএইচও