এশিয়ান গেমস হকি বাছাইপর্বের ফাইনালে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। থাইল্যান্ডের বিমানে চড়ার আগে এমন লক্ষ্যই ছিল মোহাম্মদ আশিকুজ্জামানের দলের। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ফাইনাল দূরের বাতিঘর, সেমিফাইনালেও এবার জায়গা হয়নি। শ্রীলঙ্কার কাছে হার এবং উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ড্র করে নেমে গেছে স্থান নির্ধারণীতে (পঞ্চম-ষষ্ঠস্থান)।
আজ সেই স্থান নির্ধারণীর লড়াই আমিরুল, সামিন, রাব্বিদের। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হংকং। থাইল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হবে দুদলের ম্যাচটি। জিতলে এশিয়ান গেমসের চূড়ান্তপর্বে খেলার টিকেট নিশ্চিত হবে।
৯ দলের অংশগ্রহণে এবারের এশিয়ান গেমস হকি বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দলগুলো দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলছে। সেমিফাইনালে ওঠা চার দল এবং স্থান নির্ধারণী পঞ্চম-ষষ্ঠস্থা- সব মিলিয়ে ৬ দলের ভাগ্যে জুটবে এশিয়ান গেমসের মূলপর্বে খেলার সুযোগ, যা চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে জাপানে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন জাপানের টিকেট নিয়ে ঘরে ফেরা। যদিও এই আসরে আগে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি জেতার রেকর্ড রয়েছে লাল-সবুজের। তবে এবার মাঠে দল ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
দলের পারফরম্যান্সে হতাশ জাতীয় দলের একসময়কার মাঠ কাঁপানো হকি খেলোয়াড় রফিকুল ইসলাম কামাল। দলের এমন পারফরম্যান্স প্রত্যাশিত নয় বলে জানান তিনি। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হার কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উজবেকিস্তানের কাছে পয়েন্ট হারানো মোটেও ঠিক হয়নি মন্তুব্য কামালের। সময়ের আলোকে তিনি জানান, আমার মনে হয় এটা অতি আত্মবিশ্বাসের ফল। বাংলাদেশ ধরেই নিয়েছে তারা ফাইনালে খেলবে এবং যেখানে তারা ওমানের বিপক্ষে লড়বে। এই ভাবনার কারণে মনে হয় অন্য দলগুলো নিয়ে খুব একটা ভাবনা-চিন্তা তারা করেনি।
এশিয়ান গেমসের জন্য গঠিত দল নিয়েও শুরু থেকে সমালোচনার কমতি নেই। বিশেষ করে ফরহাদ আহমেদ শিতুলের মতো অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারকে বাদ দেওয়াতে সাবেক অনেক খেলোয়াড়; এমনকি নির্বাচকদেরও কেউ কেউ এর বিরোধিতা করেছিলেন। এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম কামাল বলেন, আমার মনে হয় সবকিছুতেই এবার তাড়াহুড়ো ছিল।
শিতুল নিঃসন্দেহে ভালোমানের খেলোয়াড়। তাকে রাখা যেত। তবে আমি বলব পর্যাপ্ত অনুশীলন এই টিমের ছিল না। খুব অল্প সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে দলটি এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে খেলতে গিয়েছে। প্রস্তুতি আরও ভালো হওয়া উচিত ছিল।
এদিকে এশিয়ান গেমসের পারফরম্যান্স নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে বিস্তর সমালোচনা। তারকা এক খেলোয়াড় তো রীতিমতো বোমা ফাটিয়েছেন। এক পোস্টে ওই খেলোয়াড় লিখেন, হকি দল যে পারফরম্যান্স করেছে তার জন্য ফেডারেশন কর্তাদের যেন ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অনেক সিনিয়র খেলোয়াড় না প্রকাশ না করা শর্তে বলেছেন, এখানে সব দোষ কোচ আশিকের। তিনি কখনো জাতীয় দলের মতো বড় প্ল্যাটফর্মে কোচিংয়ের যোগ্যতা রাখেন না। তার জন্য বয়সভিত্তিক দলই ঠিক আছে। আশিককে বুঝতে হবে এটা জাতীয় দল, জুনিয়র দল নয়।
সময়ের আলো/কেএইচও