এএফসি এশিয়ান কাপ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্ট খেলে শূন্য হাতে ঘরে ফিরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। গতকাল থাইল্যান্ড থেকে ঢাকায় পা রাখে পিটার বাটলারের দল। আসরে তিন ম্যাচ খেলে তিনটিতেই পরাজিত হয় অর্পিতা-সাগরিকারা। টুর্নামেন্টে ভালো করতে পারলে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ মিলত।
ফুটবলে রচিত হতো নতুন ইতিহাস। যদিও প্রথমবার এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে খেলে ইতিহাসের অংশ হয়েছে মেয়েরা। তবে গ্রুপপর্বে ভালো খেলে চূড়ান্তপর্বে যাওয়ার সুযোগ পেলে দেশের ফুটবলটা আরও উঁচুতে জায়গা পেত।
থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এশিয়ান কাপ অনূর্ধ্ব-২০ আসর শুরু করে বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত খেলে বাটলার শিষ্যরা। প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ডিফেন্ডার আর গোলরক্ষকের ভুলে ৩-২ গোলে ম্যাচ হারে দল। এরপর শক্তিশালী চীন পরীক্ষায় নামে অর্পিতার বিশ্বাস বাহিনী। ম্যাচটি ২-০ গোলে পরাজিত হয়। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ ছিল ভিয়েতনাম।
ম্যাচটি জিতলে গ্রুপের তৃতীয় সেরা দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে পারত। ভালো খেলেও ম্যাচটি ১-০ গোলে হারে বাংলাদেশ। দেশের ফুটবলে নারী ফুটবলারদের অনেক অবদান। বিশ্বদরবারে দেশকে পরিচিত করতে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তবে ফেডারেশন যে ধরনের পরিকল্পনা আর সুযোগ-সুবিধা দেয়, বড় মঞ্চে খেলার জন্য যা অপ্রতুল।
ভালো ফলের ক্ষেত্রে ভালো সুযোগ-সুবিধাও বরাদ্দ করতে হবে। কারণ এই মেয়েরাই দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে দেশকে এশিয়ার মঞ্চে নিয়ে গেছে। জুনিয়র দলের আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এএফসি এশিয়ান কাপে বাছাইপর্বে অংশ নেয় বাংলাদেশের সিনিয়র মেয়েরা। জুনিয়রদের মতো তারাও গ্রুপপর্বে সবকটি ম্যাচে প্রতিপক্ষের কাছে হার মানে। চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হয় তাদের অভিযান। ম্যাচটি ২-০ গোলে হারে।
এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল উত্তর কোরিয়া। অপ্রত্যাশিতভাবে ম্যাচটি ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারে পিটার বাটলারের দল। গ্রুপপর্বে বাংলাদেশের সবশেষ প্রতিপক্ষ ছিল উজবেকিস্তান। মনিকা, তহুরা, ঋতুপর্ণারা ম্যাচটি ৪-০ গোলে পরাজিত হয়।
এশিয়ান কাপে জয় পাওয়ার মতো দল এখনও হয়ে উঠেনি বাংলাদেশ। তবে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জুনিয়র এবং সিনিয়র টিম যেভাবে লড়াই করেছে, তাতে সমর্থকরা হতাশ নন। ভবিষ্যতে এই দলগুলোর কাছে আর ভালো পারফরম্যান্সের আশা দেশের শতকোটি ফুটবলপ্রেমী সমর্থকের।
সময়ের আলো/কেএইচও