ইউরোপের সবচেয়ে বড় ক্লাব প্রতিযোগিতা ইউএফা চ্যাম্পিয়নস লিগে কখনো কখনো পরিসংখ্যান নয়, ফলাফলই শেষ কথা বলে। ন্যু ক্যাম্পের ম্যাচটিও যেন সেই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি- যেখানে দাপট দেখিয়েও শেষ হাসি হাসতে পারেনি বার্সেলোনা।
বল দখল, আক্রমণ, শট- সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল কাতালানরা। ১৮টি শট, যার মধ্যে ৭টি লক্ষ্যে- তবুও গোলশূন্য। কারণ একটাই, শেষ মুহূর্তের ব্যর্থতা। অন্যদিকে সুযোগ কম পেয়েও তা কাজে লাগাতে একটুও ভুল করেনি মাদ্রিদ।
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৪৪ মিনিটে। পাউ কুবের্সির লাল কার্ডে ১০ জনে পরিণত হয় বার্সা। এরপরই দৃশ্যপট বদলে যায় পুরোপুরি। সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় ডিয়েগো শিমিওনের দল।
আরও পড়ুন
ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত গোল করে অ্যাটলেটিকোকে এগিয়ে দেন জুলিয়ান আলভেজ। এই গোলটি শুধু দলকে এগিয়েই নেয়নি, ব্যক্তিগতভাবেও এটি তার জন্য বিশেষ- চলতি আসরে এটি তার নবম গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে একজন কম নিয়েও চেষ্টা থামায়নি বার্সা। লেমিনি য়ামালের পাসে মার্কুসি রেসফোর্ডের সুযোগ কিংবা সেটপিস থেকে গাভি–কুন্দেদের ব্যর্থতা- সব মিলিয়ে ভাগ্যও যেন সঙ্গ দেয়নি তাদের।
বরং ম্যাচের ৭০ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এলেক্সজেন্ডার। বদলি হিসেবে নেমে তার এই গোল কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
এই জয়ের মাধ্যমে শুধু ম্যাচেই নয়, ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় লিখেছে অ্যাটলেটিকো। ২০০৬ সালের পর প্রথমবার ন্যু ক্যাম্পে জয়, তাও আবার ১৯টি ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর- যা নিঃসন্দেহে বড় এক অর্জন।
এখন সব হিসাব গড়াবে দ্বিতীয় লেগে, মেট্রোপোলিটিনো স্টেডিয়ামে। দুই গোলের ঘাটতি পুষিয়ে সেমিফাইনালে যেতে হলে বার্সেলোনাকে শুধু ভালো খেললেই হবে না- গোল করতেও শিখতে হবে।
এএডি/