যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ২০০ মিলিয়ন ডলার দামের একটি ‘এমকিউ-৪সি ট্রাইটন’ ড্রোন নিখোঁজ হয়ে গেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালীর আকাশে নিখোঁজ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগে ড্রোনটি একটি জরুরি সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল।
বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ও ওপেন-সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, অধিক উচ্চতায় উড্ডয়ন করতে সক্ষম এই ড্রোনটি হঠাৎ উচ্চতা হারাতে শুরু করে। নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগে এটি জরুরি অবস্থা বোঝাতে আন্তর্জাতিক '৭৭০০' ডিস্ট্রেস কোড পাঠিয়েছিল। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঠিক আগে ড্রোনটি কিছুটা ইরানের আকাশসীমার দিকে মোড় নিয়েছিল এবং এরপরই দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে।
ফ্লাইটরাডার ২৪-এর মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে পাওয়া এই তথ্যগুলো এখনো স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ড্রোনটি কারিগরি ত্রুটির কারণে নিখোঁজ হয়েছে, নাকি সেটিকে ভূপাতিত করা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নিখোঁজ হওয়ার আগে এই ট্রাইটন ড্রোনটি 'কমব্যাট সার্চ-অ্যান্ড-রেসকিউ' (অনুসন্ধান ও উদ্ধার) অভিযানে যুক্ত ছিল। এর আগে এটি ইতালির সিগোনেলা নৌ-ঘাঁটিতে অবস্থান করছিল।
ড্রোনটি নিখোঁজ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দাবি করছেন যে, ইরান এই ড্রোনটিকে গুলি করে নামিয়ে থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনী বা নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, এমকিউ-৪সি ট্রাইটন হলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা সবচেয়ে দামি ড্রোনগুলোর একটি, যার প্রতিটি ইউনিটের বাজারমূল্য প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এটি মূলত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত নজরদারি করে থাকে।
সাধারণ ড্রোনের চেয়ে এটি অনেক বেশি শক্তিশালী। এটি ৫০ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতায় টানা ২৪ ঘণ্টা ওড়ার সক্ষমতা রাখে এবং এর পাল্লা প্রায় ৭ হাজর ৪০০ নটিক্যাল মাইল। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে বর্তমানে ২০টি এ ধরনের ড্রোন রয়েছে এবং আরও সাতটি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সময়ের আলো/আআ