তেল যেভাবে বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

তেল এমন একটি উপাদান যা দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রকেই প্রভাবিত করে। যানবাহনের জ্বালানি, প্লাস্টিক পণ্য তৈরি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, এমনকি

2026-04-10T20:36:28+00:00
2026-04-10T20:37:18+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
তেল যেভাবে বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩৬ পিএম  আপডেট: ১০.০৪.২০২৬ ৮:৩৭ পিএম
পাম্প জ্যাকের মাধ্যমে তেল উত্তোলন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
তেল এমন একটি উপাদান যা দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রকেই প্রভাবিত করে। যানবাহনের জ্বালানি, প্লাস্টিক পণ্য তৈরি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, এমনকি কৃষিখাতে সার তৈরিতেও তেলের প্রয়োজন হয়। এই বিপুল চাহিদার কারণেই তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রবল আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, যা বহু যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কোনো দেশকে যেমন তেল সম্পদশালী করে তুলতে পারে, তেমনি এর ঘাটতি একটি দেশের অর্থনীতিকে ধসেও ফেলে দিতে পারে।

তেলের ব্যবহার নতুন নয়। প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ মাটির নিচ থেকে উঠে আসা অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করত। ব্যবিলনীয়রা নৌকা জলরোধী করতে এবং নির্মাণকাজে এটি ব্যবহার করত। মিশরীয়রা মৃতদেহ সংরক্ষণে মমি তৈরির সময় তেল ব্যবহার করত। তবে তখনও তেলের পূর্ণ সম্ভাবনা মানবজাতির কাছে স্পষ্ট ছিল না।

১৯ শতকের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বের প্রথম সফল বাণিজ্যিক তেল কূপ আবিষ্কৃত হয়। এরপর তেল থেকে কেরোসিনসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন শুরু হয়, যা ঘরে আলো জ্বালানোর সস্তা জ্বালানি হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পেনসিলভানিয়ার টাইটাসভিলে প্রথম বাণিজ্যিক কূপ স্থাপনের পর তেল শিল্প দ্রুত বিকাশ লাভ করে।


জার্মান প্রকৌশলী কার্ল বেঞ্জ ১৮৮৫ সালে প্রথম মোটরগাড়ি তৈরি করেন, যা গ্যাসোলিনে চলত। গ্যাসোলিন ছিল কেরোসিন উৎপাদনের একটি সস্তা উপজাত। ১৯০৮ সালে হেনরি ফোর্ড সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে গাড়ি উৎপাদন শুরু করলে গ্যাসোলিনের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

গাড়ির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তেলের চাহিদাও বাড়তে থাকে। এ সময় মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল তেলের মজুত আবিষ্কৃত হয়। প্রযুক্তি ও দক্ষতার অভাবে স্থানীয় দেশগুলো তেল উত্তোলনে পিছিয়ে থাকায় পশ্চিমা কোম্পানিগুলো নামমাত্র মূল্যে তেল উত্তোলনের অধিকার পায়। পরবর্তীতে এই অঞ্চল বিশ্ব তেলের ৬০ শতাংশের বেশি সরবরাহ করতে থাকে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ তেলের কৌশলগত গুরুত্ব স্পষ্ট করে। যুদ্ধের ট্যাঙ্ক, ট্রাক ও জাহাজ চালাতে তেল অপরিহার্য হয়ে ওঠে। এ সময় যুদ্ধজাহাজগুলো কয়লার পরিবর্তে তেলচালিত ইঞ্জিনে রূপান্তর করা হয়। ফলে তেল উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ বিশ্বশক্তিগুলোর প্রধান অগ্রাধিকারে পরিণত হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তেলের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায়। ১৯৪৪ সালের ৮ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ‘অ্যাংলো-আমেরিকান পেট্রোলিয়াম চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ভাগ করে নেওয়া হয়। তবে এ সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জনগণের কোনো অংশগ্রহণ ছিল না।

মিশর সুয়েজ খালের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করলে ব্রিটেনে তেলের দাম বেড়ে যায়। এর মাধ্যমে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর শক্তির গুরুত্ব বিশ্বে স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং তারা আগের চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা করতে শুরু করে।


ইয়ম কিপুর যুদ্ধের সময় আরব দেশগুলো পশ্চিমাদের ওপর তেল অবরোধ আরোপ করে। এতে তেলের সরবরাহ কমে যায় এবং দাম প্রায় চারগুণ বেড়ে যায়। বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধাক্কা খায় এবং বিকল্প জ্বালানির সন্ধান শুরু হয়।

ইরাক কুয়েত আক্রমণ করে তেলক্ষেত্র দখল করলে তেলের ওপর নির্ভরতার বিষয়টি আবারও সামনে আসে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী হস্তক্ষেপ করে এবং তেলের সরবরাহ সচল রাখা এই যুদ্ধের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে ‘ফ্র্যাকিং’ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে শেল স্তর থেকে তেল ও গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমে যায়।

বৈশ্বিক মন্দা ও অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে ২০১৫ সালে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো উৎপাদন কমায়নি, বরং প্রতিযোগীদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে উৎপাদন ধরে রাখে। এতে তেলের দাম ৪০ শতাংশের বেশি কমে যায় এবং পশ্চিমা কোম্পানিগুলো নতুন বিনিয়োগ কমিয়ে দেয়।

সময়ের আলো/আরবিএন













  বিষয়:   তেল  যানবাহন  জ্বালানি  প্লাস্টিক  পণ্য  বিদ্যুৎ  উৎপাদন  কৃষিখাত  সার 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: