মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ইরানে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসা কেন্দ্রসহ দেশজুড়ে ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রধান পিরহোসেইন কোলিভান্দ জানান, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় সারা দেশে মোট ১,২৫,৬৩০টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরনা সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে ২৩,৫০০টি বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ৩৩৯টি চিকিৎসাকেন্দ্র রয়েছে।
কোলিভান্দ জানিয়েছেন, এর মধ্যে হাসপাতাল, ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং জরুরি সেবা ইউনিটও অন্তর্ভুক্ত।
এদিকে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের হাসপাতাল রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
জানা যায়, লেবাননের সিদোন, নাবাতিয়াহসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। যার মধ্যে একটি গাড়ির ওপর ড্রোন হামলাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, ১০ এপ্রিল রাতভর ইসরায়েলি নজরদারি একটি ড্রোন রাজধানী বৈরুতের ওপর দিয়ে উড়তে দেখা গেছে।
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী হামলার মাঝেই বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোর বাসিন্দাদের শহর ছেড়ে নিরাপদে যেতে নির্দেশ দিয়েছে।
এই নির্দেশে দেশটির জনা শহরও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইসরায়েল বিমান হামলায় দেশটির বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছে।
এখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-ডব্লিউএইচও পরিচালিত বৃহৎ দুটি হাসপাতালও রয়েছে বলে জানা যায়।
ডব্লিউএইচও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, ওই হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় চলছে। সেখানে অন্তত ৪৫০ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন, যাদের জন্য বিকল্প কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থার সুযোগ নেই।
সংস্থাটি অবিলম্বে এই নির্দেশ প্রত্যাহারের আহ্বানও জানিয়েছে। কেননা ইসরায়েলের হামলায় আহতের সংখ্যা এত ছাড়িয়েছে যে লেবাননজুড়ে হাসপাতালগুলো এখন ধারণক্ষমতার বাইরে।
চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো বুধবারের ইসরায়েলি হামলায় আহত ১,০০০ এরও বেশি আহত মানুষের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।
সময়ের আলো/আরবিএন