বিশ্বজুড়ে বাড়ছে হার্ট অ্যাটাকের আতঙ্ক। উদ্বেগজনকভাবে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি। চিকিৎসকদের মতে, আধুনিক জীবনযাপনের নানা অভ্যাসই এ জন্য দায়ী। তবে সময়মতো জীবনধারায় কিছু পরিবর্তন আনলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাসই নির্ধারণ করে হৃদযন্ত্র কতটা সুস্থ থাকবে। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো
বর্তমানে বাতাস, পানি ও খাবারে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি বাড়ছে। এসব কণা শরীরে প্রবেশ করে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। সামুদ্রিক মাছসহ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। নিয়মিত এসব খাবার গ্রহণ করলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
সূর্যালোকের সংস্পর্শে থাকা
বর্তমানে অনেকেই ঘরের ভেতর ও শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বেশি সময় কাটান। তবে নিয়মিত সূর্যের আলো শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া সক্রিয় করে এবং ধমনিতে প্ল্যাক জমা কমাতে সাহায্য করে। এতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা
পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ঘুমের সময় শরীর নিজেকে মেরামত করে এবং বিপাকক্রিয়া সক্রিয় থাকে। ঘুমের অভাব হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা
দীর্ঘসময় বসে থাকার অভ্যাস হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। তাই নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো বা হালকা ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরকে সচল রাখা প্রয়োজন।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ হৃদযন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই চাপ কমানোর উপায় খুঁজে নেওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখা
ঘরের আর্দ্রতা, ছত্রাক বা জীবাণু দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ক্ষতি করতে পারে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই বসবাসের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
শরীরের ভেতরের অবস্থা জানতে নিয়মিত পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। এতে প্রদাহ, পুষ্টির ঘাটতি বা অন্যান্য ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করা সম্ভব।
ইলেকট্রনিক যন্ত্রের ব্যবহার কমানো
অতিরিক্ত ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহারের ফলে ঘুমের ব্যাঘাতসহ নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ঘুমের সময় মোবাইল দূরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের মতে, সচেতনতা ও জীবনযাত্রায় ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সময়ের আলো/আরবিএন