পৃথিবীতে কেবল ৪৩ জনের শরীরে আছে ‘গোল্ডেন ব্লাড’

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

​রক্তের গ্রুপ বলতেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে চিরচেনা চারটি ধরন— ‘এ’, ‘বি’, ‘এবি’ এবং ‘ও’। এর সাথে যোগ হয় আরএইচ

2026-04-10T21:38:21+00:00
2026-04-10T21:38:21+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
ফিচার
পৃথিবীতে কেবল ৪৩ জনের শরীরে আছে ‘গোল্ডেন ব্লাড’
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৮ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
​রক্তের গ্রুপ বলতেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে চিরচেনা চারটি ধরন— ‘এ’, ‘বি’, ‘এবি’ এবং ‘ও’। এর সাথে যোগ হয় আরএইচ (Rh) ফ্যাক্টর, যা নির্ধারণ করে রক্ত পজিটিভ হবে নাকি নেগেটিভ। অর্থাৎ সব মিলিয়ে আমরা সচরাচর আট ধরনের রক্তের গ্রুপের সাথে পরিচিত। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই আট ধরনের বাইরেও পৃথিবীতে এমন এক রক্তের গ্রুপ রয়েছে যা এতটাই বিরল যে একে বলা হয় ‘গোল্ডেন ব্লাড’ বা সোনালি রক্ত? চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যার নাম ‘Rh-null’ (আরএইচ নাল)।

​রক্তের রঙ কি সত্যিই সোনালি?

​‘গোল্ডেন ব্লাড’ নাম শুনে অনেকের মনেই কৌতূহল জাগতে পারে যে, এই রক্তের রঙ হয়তো সোনালি। কিন্তু বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। সাধারণ মানুষের মতো এই বিরল রক্তের রঙও টকটকে লাল। এর বিশেষত্ব এবং দুষ্প্রাপ্যতার কারণেই চিকিৎসকরা একে ‘সোনালি’ নামে অভিহিত করেছেন।

বিশ্বের মাত্র ৪৩ জনের শরীরে এই রক্ত

​বিস্ময়কর তথ্য হলো, গত ৬০ বছরে সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪৩ জন মানুষের শরীরে এই বিশেষ রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ১৯৬০ সালে প্রথম একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর শরীরে এই রক্তের খোঁজ পান চিকিৎসকরা। সেই সময় দেখা যায়, তার লোহিত রক্তকণিকার প্রোটিন বা অ্যান্টিজেনগুলো এমন যে সেটিকে সাধারণ কোনো পজিটিভ বা নেগেটিভ ক্যাটাগরিতে ফেলা সম্ভব হচ্ছে না। এরপর থেকেই চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি এক পরম বিস্ময় হয়ে দাঁড়ায়।

কেন এটি অন্য সব গ্রুপের চেয়ে আলাদা?

​রক্তের গ্রুপ মূলত নির্ধারিত হয় লোহিত রক্তকণিকার ওপর থাকা বিশেষ এক ধরণের প্রোটিন বা ‘অ্যান্টিজেন’-এর মাধ্যমে। আমাদের অতি পরিচিত আরএইচ (Rh) সিস্টেমে প্রায় ৫০টিরও বেশি অ্যান্টিজেন রয়েছে। সাধারণ মানুষের রক্তে এর কোনো না কোনোটি অবশ্যই থাকে। বিশেষ করে ‘আরএইচডি’ (RhD) প্রোটিন থাকলে রক্ত পজিটিভ হয়, আর না থাকলে নেগেটিভ।

​কিন্তু ‘গোল্ডেন ব্লাড’ বা ‘Rh-null’ হলো এমন একটি গ্রুপ, যাদের রক্তে এই ৫০টিরও বেশি অ্যান্টিজেনের একটিও নেই। অত্যন্ত বিরল এক জেনেটিক পরিবর্তনের কারণেই মানবদেহে এমন রক্ত তৈরি হয়।

​বংশগতি ও গোল্ডেন ব্লাড

​এই বিরল রক্তের ধরনটি মূলত জিনগত কারণে হয়ে থাকে। এটি এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে বাহিত হতে পারে। তবে মজার বিষয় হলো, এটি সবসময় উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া যায় না। অনেক সময় দেখা যায়, পরিবারের কয়েক প্রজন্ম পর হঠাৎ করে কোনো একজন সদস্যের শরীরে এই ‘গোল্ডেন ব্লাড’-এর উপস্থিতি দেখা দেয়।


​কেন একে ‘সবচেয়ে দামি’ রক্ত বলা হয়?

​এই রক্তকে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি রক্ত বলার পেছনে রয়েছে অত্যন্ত যৌক্তিক কারণ:

​সর্বজনীন দাতা : গোল্ডেন ব্লাডের অধিকারীরা পৃথিবীর যেকোনো রক্তের গ্রুপের মানুষকে রক্ত দিতে পারেন। যেহেতু এতে কোনো অ্যান্টিজেন নেই, তাই অন্য যেকোনো শরীরে এটি সহজেই খাপ খেয়ে যায়।

​চিকিৎসায় ব্যবহার : বিরল কিছু রোগের চিকিৎসায় এবং গবেষণায় এই রক্তের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

​প্রকৃতির এক অনন্য বিস্ময় এই গোল্ডেন ব্লাড। যদিও অধিকাংশ মানুষ এর কথা কখনো শোনেনওনি, তবুও চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এটি মানবদেহের জটিল গঠন ও বৈচিত্র্যের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে টিকে আছে।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   ​রক্ত  গ্রুপ  আরএইচ  ফ্যাক্টর  গোল্ডেন  ব্লাড 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: