ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ কূটনীতি শুরু হতে যাচ্ছে। এ নিয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সফলতার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি যে অত্যন্ত নাজুক, সেটিও তারা স্বীকার করেছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের ওপর আস্থার কথা জানান। তবে আলোচনার ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত— এমন কোনো আভাস দেওয়া থেকে বিরত থাকেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়। সেখানে জেডি (ভ্যান্স), স্টিভ এবং জ্যারেড আছে। আমাদের একটি দক্ষ দল রয়েছে এবং আগামীকাল তারা বৈঠকে বসছে। আমরা দেখব সব কেমন চলছে। মূলত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং শীর্ষ উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিনিধি দলের কথা উল্লেখ করে তিনি এসব বলেন।
একই সময়ে ট্রাম্প এই আলোচনাকে স্পষ্টভাবে কৌশলগত এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও কৌশলগত পয়েন্টগুলোর সঙ্গে জড়িত অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থই শেষ পর্যন্ত এই আলোচনার ফলাফল নির্ধারণ করবে।
ট্রাম্প বলেন, প্রণালিটি (হরমুজ) খুলে যাবে। আমরা যদি কেবল এটি ছেড়ে দিই, তবে এটি এমনিতেই খুলবে। আমরা এই প্রণালি ব্যবহার করি না, অন্যান্য দেশগুলো এ কাজে এগিয়ে আসবে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে কোনো বিকল্প পরিকল্পনা (ব্যাকআপ প্ল্যান) আছে কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি তা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, এটি সহজ হবে না, তবে আমরা খুব দ্রুতই পথটি খুলে দিতে পারব। কোনো ব্যাকআপ প্ল্যানের প্রয়োজন নেই।
ট্রাম্পের এসব মন্তব্য তার আত্মবিশ্বাস এবং অনিশ্চয়তা— উভয়ের সংমিশ্রণকেই স্পষ্ট করে তুলেছে। তিনি আলোচনার কলাকৌশল বা প্রক্রিয়াটি পরিকল্পিতভাবে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখলেও এর চূড়ান্ত ফলাফলের ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন।
সময়ের আলো/আআ